রেজিনগরের আকাশে উড়বে শিল্পের ধোঁয়া! উপনির্বাচনের প্রচারে নামতেই শমীক ভট্টাচার্যের হুঙ্কারে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র। বুধবার ছিল এই কেন্দ্রের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রেজিনগরের বেহাল শিল্পতালুক ও পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান শাসক শিবিরকে। অন্যদিকে, জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেছে হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিমের গলায়।
এদিন রেজিনগর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার এবং ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ ওরফে হাবিব মাস্টার—উভয়েই নিজ নিজ অনুগামীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিল করে মনোনয়ন জমা দেন। এই জমায়েতকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানান, রেজিনগরের আকাশে ফের শিল্পের ধোঁয়া ওড়ানোর দায়িত্ব তাঁদের দলই নিয়েছে। এতদিন ধরে চলা সিন্ডিকেট রাজ ও শিল্পহীনতার জন্য বিগত সরকারগুলিকেই দায়ী করে তিনি বলেন, মানুষ আর ধর্মের বিভাজনে আটকে না থেকে নিজেদের রুটি-রুজি ও উন্নয়নের পথ বেছে নেবে। গুজরাটের সঙ্গে তুলনামূলক উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকার রাজ্যে এলে এখানকার বেকার যুবক-যুবতীদের আর ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা পোহাতে হবে না।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন, রেজিনগরের মানুষ অসভ্যতা ও সাম্প্রদায়িকতা প্রত্যাখ্যান করে ইতিমধ্যেই তাদের রায় দিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি, জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত তাঁদের শিবিরেই থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সব মিলিয়ে, বহুচর্চিত এই উপনির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী সহ বাম-কংগ্রেস এবং মূল লড়াইয়ের ত্রিমুখী সমীকরণে শেষ হাসি কে হাসবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।