সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী মেজাজে থাকার বদলে তৃণমূল সাংসদদের ব্যক্তিগত আচার-আচরণ ও জীবনযাপন নিয়ে যখন চারদিকে ট্রোলিং আর বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই আসরে নামলেন দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দিল্লির বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিলেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না।
অভিষেকের রাডারে মহুয়া-রচনা-সৌগত: নাম না নিলেও অভিষেকের তীরের নিশানায় ছিলেন দলের হেভিওয়েট কয়েকজন সাংসদ। সূত্রের খবর, অভিষেক যে বিষয়গুলোতে অত্যন্ত উষ্মা প্রকাশ করেছেন সেগুলি হলো:
-
মহুয়া মৈত্রের নাচ: বিজেপি সাংসদ তথা শিল্পপতি নবীন জিন্দলের মেয়ের বিয়েতে বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের সঙ্গে মহুয়া মৈত্রের নাচের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। কড়া রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে এমন ‘দোস্তি’ ভালো চোখে দেখছে না দল।
-
রচনার একক পদক্ষেপ: দলের অনুমতি না নিয়েই হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাওয়া নিয়ে বিরক্ত অভিষেক।
-
সৌগত রায়ের উপস্থিতি: প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ের শরদ পওয়ারের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
-
ই-সিগারেট কাণ্ড: সংসদে দুই তৃণমূল সাংসদের ই-সিগারেট খাওয়া বা ধূমপানের অভিযোগ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাতে দলের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন অভিষেক।
কড়া ‘গাইডলাইন’ জারি: সাংসদদের জন্য একগুচ্ছ অলিখিত নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন অভিষেক: ১. অন্য দলের নেতা বা সাংসদদের আমন্ত্রণ রক্ষা করার আগে দলকে জানাতে হবে। ২. দলের অনুমতি ছাড়া কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে ব্যক্তিগত তদ্বিরে যাওয়া যাবে না। ৩. এমন কোনও আচরণ করা যাবে না যাতে পশ্চিমবঙ্গ বা তৃণমূল কংগ্রেসের মাথা হেঁট হয়।
আক্রমণের নিশানা বদলের নির্দেশ: ব্যক্তিগত বিনোদন কমিয়ে অভিষেক দলের সাংসদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, সংসদে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং বকেয়া টাকা নিয়ে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হতে হবে। তবে সাংসদরা যেভাবে সংসদে প্রশ্ন তুলছেন, তার প্রশংসাও করেছেন তিনি।
সম্পাদকের বিশ্লেষণ: তৃণমূলের এই নতুন গাইডলাইন কি সাংসদদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ? না কি ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি মাস্টারস্ট্রোক? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।