রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’ অভিযানের মধ্যেই স্বস্তি! খসড়া তালিকা থেকে বেড়ে গেল ভোটারের সংখ্যা, পাটনায় যুক্ত ১.৬৩ লক্ষ নাম

তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের মধ্যেই বিহার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। ২২ বছর পর পরিচালিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার এই তালিকা প্রকাশ করা হলো। এই তালিকা ঘিরেই রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

কমিশন সূত্রে খবর, সম্ভবত ৬ বা ৭ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হতে পারে, তার আগে এই তালিকা প্রকাশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খসড়ার তুলনায় বাড়ল ভোটারের সংখ্যা
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর যেখানে খসড়া তালিকায় প্রায় ৬৫.৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল, সেখানে চূড়ান্ত তালিকায় নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

পাটনার চিত্র: পাটনা জেলায় ১ আগস্ট, ২০২৫-এ প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ভোটার ছিল ৪৬,৫১,৬৯৪ জন। কিন্তু এক মাসব্যাপী দাবি ও আপত্তি প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮,১৫,২৯৪ জন। অর্থাৎ, পাটনা জেলায় মোট ১,৬৩,৬০০ জন ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

মোট ভোটারের পরিবর্তন: প্রক্রিয়া শুরুর আগে বিহারে ৭.৮৯ কোটি ভোটার ছিল, যা খসড়া তালিকায় কমে ৭.২৪ কোটি হয়েছিল। কিন্তু আপত্তি ও নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির পর এই সংখ্যা আরও বেড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভোটাররা এখন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তাঁদের বিস্তারিত তথ্য দেখতে পারবেন।

এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক
বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়া প্রথম থেকেই রাজনৈতিক এবং আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

বিরোধীদের অভিযোগ: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডির তেজস্বী যাদব এই প্রক্রিয়াকে ‘ভোট চুরি’ অভিযান আখ্যা দিয়েছিলেন এবং ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ পরিচালনা করেছিলেন। বিরোধীরা অভিযোগ এনেছিল— কমিশন দরিদ্র ও সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে।

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ: বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছায়। বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ করেন যে অনিয়ম পাওয়া গেলে ভোটার তালিকা বাতিল করতেও তাঁরা দ্বিধা করবেন না। আদালত ভোটারদের অধিকার বজায় রাখতে ‘গণহারে অন্তর্ভুক্তি’র উপর জোর দেয় এবং আধারকে বৈধ নথি হিসাবে অনুমোদন করে। পরবর্তী শুনানি ৭ অক্টোবর হওয়ার কথা।

নিয়ম অনুসারে, ভোটাররা মনোনয়নের শেষ তারিখের ১০ দিন আগে পর্যন্ত অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাঁদের নাম একটি সম্পূরক তালিকায় যুক্ত হবে।