রাস্তায় এবার পিচ নয়, খাঁটি ২৪ ক্যারাট সোনা! পৃথিবীতে প্রথম এমন অসাধ্য সাধন করছে এই দেশ

গগনচুম্বী অট্টালিকা, ঝাঁ-চকচকে চওড়া সড়ক আর মহার্ঘ্য বিলাসবহুল গাড়ির সম্ভার—দুবাই বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এমনই এক ধনকুবেরের স্বর্গরাজ্য। তবে এবার সেই রূপকথাকেও হার মানাতে চলেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) সরকার। সাধারণ পিচ বা কংক্রিটের বদলে দুবাইয়ের আস্ত একটি হাঁটার রাস্তাকে সোনায় মুড়ে ফেলার এক অভূতপূর্ব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
২৪ ক্যারাট খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি এই ‘গোল্ড ওয়াকওয়ে’ বা সোনার পথটিই হতে চলেছে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কোনো সোনার রাস্তা!
চলতি বছরের শেষেই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত!
‘দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’ (Dubai Gold District)-এর তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, বিশ্বকে এক নতুন চমক দিতে ২৪ ক্যারাট সোনা দিয়ে এই বিশেষ হাঁটার রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি শুধু বিরলই নয়, পৃথিবীর মধ্যে দীর্ঘতম সোনার পথ হিসেবেও নজির গড়বে। সব ঠিক থাকলে আর মাত্র দু’মাসের মধ্যেই, অর্থাৎ ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই রাজকীয় রাস্তাটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর রশিদ আল হারমুদি জানান, “মানুষকে একদম অনন্য ও অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানচিত্রে সোনার ব্যবসা ও পর্যটনের শীর্ষতম বিশ্বকেন্দ্র হিসেবে দুবাইকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।”
কী রয়েছে এই বিলাসবহুল প্রকল্পের আড়ালে?
সোনার গয়না নির্মাণে দুবাইয়ের দক্ষতা নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি ভারতীয় ধাঁচের বিশাল আকারের সোনার ঝুমকো তৈরি করে দু-দুটো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন করেছে সেখানকার প্রখ্যাত জুয়েলারি সংস্থা ‘জয়ালুকাস’ (Joyalukkas)।
তবে দুবাইয়ের বুকে সম্পূর্ণ সোনা দিয়ে মোড়ানো এই পথ নির্মাণের খবর সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে চরম কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও নিরাপত্তা ও কারিগরি কারণে এই সোনার রাস্তা ঠিক কতটা দীর্ঘ হবে, নির্মাণে মোট কত পরিমাণ সোনা ব্যবহৃত হচ্ছে কিংবা এতে কত কোটি টাকা খরচ পড়ছে—তার বিশদ তথ্য এখনই খোলসা করেনি কর্তৃপক্ষ।
সোনা ও গয়না ব্যবসার নতুন আন্তর্জাতিক রাজধানী
পশ্চিম এশিয়ার বুকে সবচেয়ে বড় স্বর্ণ ও গয়না প্রদর্শনীর বিশাল পরিকল্পনা করছে দুবাই। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে গড়ে তোলা এই সোনার রাস্তাটি সেই মেগা পরিকল্পনাকেই এক পূর্ণতা দেবে।
এমনিতেই দুবাই সোনা ও রত্ন ব্যবসার বৈশ্বিক কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে। তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাইকারি স্বর্ণব্যবসা কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি সোনা, হিরে, মূল্যবান রত্ন ও দামি ঘড়ির শোরুমের সংখ্যাও একলাফে ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ আশাবাদী, আগামী দিনে এই প্রবৃদ্ধির হার বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।