‘রাষ্ট্রবিরোধী বা সনাতন বিরোধী লেখা সহ্য করব না!’-বই নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

“পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রবিরোধী, সনাতন বিরোধী বা কোনও ধর্মকে আঘাত করা কোনও লেখা আমরা বরদাস্ত করব না।” রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে এভাবেই অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুংকার ছাড়লেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি তাঁর একসময়ের রাজনৈতিক সঙ্গী তথা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের চেনা মুখ পীযূষকান্তি ভুঁইয়ার লেখা একটি নতুন বইকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই এই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি।

রবিবার রামনগরের চোরবাগানে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত কল্পনা জানার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলে তাঁকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। সাংবাদিকরা তাঁকে জানান যে, একসময়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সঙ্গী পীযূষকান্তি ভুঁইয়া ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান ও পতনে শুভেন্দু অধিকারী’ নামে একটি বই লিখেছেন। সেই প্রসঙ্গেই নিজের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ওঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু এসইউসিআই-এর হাত ধরে। উনি নন্দীগ্রামের মানুষের জন্য অনেক সময় দিয়েছেন। আমার সঙ্গে জমি আন্দোলন করেছেন। কেউ কী লিখেছেন, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত অভিব্যক্তির উপর নির্ভর করে।”

তবে ব্যক্তিগত মতামতকে ছাড়পত্র দিলেও বই বা স্টল সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর স্পষ্ট কথা, “তবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রবিরোধী, সনাতন বিরোধী বা কোনও ধর্মকে আঘাত করা কোনও লেখা আমরা পশ্চিমবঙ্গে করতে দেব না। যেটা ওই স্টল খাটিয়ে করার চেষ্টা হয়েছিল, মানুষ তার উপযুক্ত প্রতিহত করেছে।”

বইয়ের স্টল ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক: উল্লেখ্য, গত দুর্গাপুজোর মণ্ডপ এবং তার আশপাশে বামেদের বইয়ের স্টল দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও অশান্তি তৈরি হয়েছে। সিপিএমের বেশ কিছু স্টলে বাধা দেওয়া এবং ভাঙচুরের মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। যাদবপুরে বইয়ের স্টল সরানো সংক্রান্ত মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। এর আগে পুজোর স্টলে ‘দুর্গাপুজো’ শব্দের বদলে ‘শারদোৎসব’ ব্যবহার করা হলে সেখানে অনুমতি দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দু। রামনগরের সাম্প্রতিক এই ঘটনায় ওই বই ও স্টল বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।