‘মোদীর বাবাও যাবে!’ পাটনার মঞ্চে খাড়গের বিস্ফোরক মন্তব্য, রেগে আগুন শাহ ও বিজেপি সভাপতি!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এক ধাক্কায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি। রবিবার বিহারের পাটনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খাড়গের দেওয়া এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়েছে। এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একযোগে কংগ্রেস সভাপতিকে চরম আক্রমণ করেছেন। বিজেপির দাবি, কংগ্রেস এখন নীতি ও আদর্শগতভাবে সম্পূর্ণ ‘দেউলিয়া’ হয়ে পড়েছে।

পাটনার সভায় ঠিক কী ঘটেছিল? রবিবার বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংহের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পাটনায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বক্তব্য রাখছিলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। ভাষণ চলাকালীন দর্শকাসনে উপস্থিত এক ব্যক্তি হঠাৎ চিৎকার করে বলে ওঠেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কোথাও যাবেন না।

তার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে খাড়গে বলে বসেন, “মোদী কা বাপ ভি যায়েগা” (মোদীর বাবাও যাবেন)। অভিযোগ, একই মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি দু’বার এই কথা বলেন। খাড়গের এই মন্তব্যের পরপরই পুরো সভাস্থলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বক্তব্য চলাকালীন বাধা দেওয়া ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

‘আদর্শগত দেউলিয়া কংগ্রেস’, তোপ নীতিন নবীনের: খাড়গের এই কুরুচিকর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেন, “দেশের সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির ব্যবহার করা অশালীন ও অসংসদীয় ভাষা আসলে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ও আদর্শগত দেউলিয়াপনারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।” তিনি আরও যোগ করেন, রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, কিন্তু মৃত্যুর পর পরিবারের মৃত সদস্যদের টেনে এনে বিতর্ক তৈরি করা রাজনৈতিক শালীনতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে। উন্নয়ন, নীতি কিংবা জনকল্যাণমূলক কাজ নিয়ে বলার মতো কিছু না থাকায় বিরোধীরা এখন সস্তা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে।

কংগ্রেসের মূল হাতিয়ার কুরুচিকর রাজনীতি: অমিত শাহ অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও খাড়গের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেস সভাপতি রাজনৈতিক সৌজন্যের সমস্ত সীমা পার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বর্তমান কংগ্রেস দল কোনো গঠনমূলক বা নীতিগত আলোচনার বদলে কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ, কাদা ছোড়াছুড়ি ও কটূক্তির রাজনীতির ওপর নির্ভর করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।