রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির শাস্তি! ভারত ও চিনসহ ৫ দেশের ওপর ১০০% শুল্ক বসানোর বিল পাস মার্কিন সিনেটে

রাশিয়া এবং তার প্রধান জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলিকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে মার্কিন কংগ্রেসে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর বিল পাস হলো। মার্কিন সিনেটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (৮৬-১১ ভোটে) পাস হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ নামক এই নতুন দ্বিদলীয় বিলটি। এই বিল কার্যকর হলে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী শীর্ষ ৫টি দেশ—ভারত, চিন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়া—এর ওপর মার্কিন মুলুকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর এক ধাক্কায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক (Tariff) আরোপ করার অবাধ ক্ষমতা পেয়ে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের যৌথ উদ্যোগে আনীত এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো, রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা এবং ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক আগ্রাসনের পেছনে যে সমস্ত দেশ পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক মদত জোগাচ্ছে, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
কী রয়েছে এই বিলে?
১০০ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া: বিলটি পাস হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশ (ভারত, চিন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া) থেকে আসা যেকোনো পণ্যের ওপর একশো শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর আইনি অধিকার পেয়ে যাবেন।
পুতিন ও রাশিয়ান নেতৃত্বের ওপর কোপ: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষস্থানীয় রুশ কর্মকর্তা, দেশটির ধনী অলিগার্ক (বড় শিল্পপতি) এবং প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি: রাশিয়ার পাশাপাশি এই আইনটি ১৯৯৬ সালের ‘ইরান নিষেধাজ্ঞা আইন’কে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করবে, যা তেহরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী যেকোনো সংস্থাকে শাস্তি দেবে।
আসছে প্রতিনিধি পরিষদের ভোটাভুটি ও ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগ: আগামী ৩১ আগস্ট যখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (House of Representatives) অধিবেশন পুনরায় শুরু হবে, তখন এই বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সেখানে পেশ করা হবে।
তবে এই বিলের জেরে ডেমোক্র্যাট শিবিরের একাংশের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকস এবং ডন বেয়ার এই আইনের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত ও স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠবেন। তাঁদের মতে, এই বিলটি রাশিয়াকে দমনের উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও, ট্রাম্প এটিকে তাঁর নিজস্ব বাণিজ্য যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, যার চরম মূল্য শেষ পর্যন্ত মার্কিন সাধারণ নাগরিকদেরই চোকাতে হবে।
অন্যদিকে, এই বিল ভারত ও চিনের মতো উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির বাণিজ্য নীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রেখে মস্কো থেকে সস্তা জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি আগামী দিনে কী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।