রায়চক থেকে ইশাপুর—প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ঘোষণায় তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গে শিল্প এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মোড় আনতে চলেছে কেন্দ্র। রাজ্যের লজিস্টিক ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভূমিপূজা ও শিলান্যাস সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের হাত ধরে হাওড়ার টিম্বার পন্ড শিপবিল্ডিং ফেসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফেসিলিটি এবং রায়চক শিপইয়ার্ডের কাজ শুরু হওয়ায় বঙ্গবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই সমস্ত উদ্যোগ ভারতের ভবিষ্যৎ সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইশাপুরের মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরিতে দুটি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করে তিনি জানান যে, এর ফলে অ্যাডভান্সড ওয়েপন সিস্টেমস এবং কৌশলগত উপকরণের সরবারহ আরও সুদৃঢ় হবে। ইশাপুরে ওয়াইন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড (ওয়াইআইএল)-এর মাধ্যমে বিগত জানুয়ারি মাস থেকে ১,৩০০ কোটিরও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা প্রাচীন উৎপাদন পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে সাহায্য করবে।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের অসামান্য সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। আগামী দিনে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের যৌথ উদ্যোগে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তোলা হবে। বর্তমান বিশ্বে জাহাজের চাহিদা আকাশছোঁয়া হলেও উন্নত দেশগুলিতে শ্রমিকের অভাব এবং বর্ধিত খরচের কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্প পিছিয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত বিশ্বের পরবর্তী প্রধান শিপবিল্ডিং হাব হয়ে ওঠার এক সোনালী সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাংলার দক্ষ মানবসম্পদ, শক্তিশালী স্টিল শিল্প ও মাঝারি শিল্পের সমন্বয় ঘটিয়ে এই লক্ষে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিনিয়োগের ফলে বাংলায় নতুন শিল্পের পুনর্জাগরণ বা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেনেসাঁ’ শুরু হতে চলেছে। এর হাত ধরে রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার তরুণের কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হবে। গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড বা জিআরএসই-এর বিভিন্ন প্রকল্পের হাত ধরে বাংলার অর্থনীতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।