রামপুরহাটে আদিবাসী ছাত্রী খুন, দেহ টুকরো টুকরো, ধর্ষণ-প্রমাণের অভাবে বিপাকে পুলিশ, উত্তাল এলাকা

রামপুরহাটে এক আদিবাসী ছাত্রী খুনের ঘটনায় তার পরিবার ধর্ষণের অভিযোগ আনলেও, এই অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ছাত্রীর দেহের কিছু অংশ এখনও পাওয়া যায়নি। তার দুটি হাত ও শরীরের নিম্নাংশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে, এই ঘটনার তদন্তে পুলিশ অভিযুক্তের বাড়ি থেকে একটি সেক্স টয় উদ্ধার করেছে।

গত ২৮ আগস্ট রামপুরহাট থানা এলাকার সপ্তম শ্রেণির ওই আদিবাসী ছাত্রী নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ স্কুলের এক শিক্ষককে আটক করে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তার গতিবিধি নজরে রাখা হয়। শিক্ষকের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে তাকে আবারও আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি খুনের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রামপুরহাট শহরের একটি খালের নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় দ্বিখণ্ডিত দেহ উদ্ধার করা হয়।

অসম্পূর্ণ দেহ এবং তদন্তে জটিলতা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত বস্তায় ছাত্রীর সম্পূর্ণ দেহ ছিল না। তার দুটি হাত ও শরীরের নিম্নাংশ অনুপস্থিত। এই কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তারা সমস্যায় পড়েছেন। ছাত্রীর পরিবার যেহেতু ধর্ষণের অভিযোগ করেছে, তাই সেই অভিযোগের তদন্তের জন্য দেহের সব অংশ খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং জানিয়েছেন, “ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং গ্রামের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”

প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় জনতা ওই ছাত্রীর স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ধরে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা স্কুলের সামনে রামপুরহাট-ঝাড়খণ্ড রাস্তা অবরোধ করেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি বীরভূম জেলা সভাপতি তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘লাশ লোপাটের’ রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “এই ছাত্রীরও অর্ধেক শরীর পাওয়া যায়নি। অথচ একে কবর দেওয়া হলো। বাড়ির লোকেরা কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত এবং কল্যাণী এইমসে ময়নাতদন্তের দাবি করেছে। এসডিপিও সাহেব সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”