রান্নাঘরের খরচ কমাতে বড় পদক্ষেপ! বছরে তিনটি ফ্রি এলপিজি সিলিন্ডার দিচ্ছে সরকার, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং রান্নাঘরের বাজেট সামলাতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একাধিক জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সামনে এসেছে ‘অন্নপূর্ণা সুপার ৬’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য নারীদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যার ফলে বার্ষিক মোট ৩৬,০০০ টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে। সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর বা DBT প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অর্থপ্রদান করা হবে বলে আবেদনকারীর নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযোগ থাকা অত্যন্ত জরুরি ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে গৃহিণীদের রান্নাঘরের খরচ সামলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়। সেই দিকটি মাথায় রেখেই সরকারের এই বিশেষ ঘোষণায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মূলত বছরে ৬টি সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও, প্রকল্পের প্রথম ধাপে সরকার বছরে ৩টি ফ্রি গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পরিবারের রান্নার জ্বালানির খরচ অনেকটাই কমবে এবং সাশ্রয় হওয়া অর্থ অন্যান্য জরুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
আগামী পোঙ্গল উৎসব অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই এই প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে। প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো—আবেদনকারী পরিবারকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। এছাড়াও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিযুক্ত পরিবার এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর মানুষরাও এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। সুবিধাটি সম্পূর্ণভাবে পরিবারপিছু দেওয়া হবে এবং গ্রাহকদের প্রথমে সিলিন্ডার কেনার পর সংশ্লিষ্ট অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রিফান্ড বা ডিবিটি-র মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে।
এই পুরো ব্যবস্থার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং এর ফলে আনুমানিক ১.৩০ কোটি পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র যেমন—রেশন কার্ড, আধার কার্ড, সক্রিয় এলপিজি কানেকশন নম্বর, আয় শংসাপত্র এবং ব্যাঙ্কের বিশদ বিবরণ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারের এই মেগা প্রকল্প সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং গৃহিণীদের মুখে হাসি ফোটাতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।