রাতের শহরে বাড়ছে তাপমাত্রা, বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্বব্যাঙ্কের এক নতুন রিপোর্ট ভারতের শহরাঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে শহরের তাপমাত্রা রাতের বেলাতেও ক্রমশ বাড়ছে, যা পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ অঞ্চলের তুলনায় ৩-৪ ডিগ্রি বেশি। ‘Towards Resilient and Prosperous Cities in India’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ইট, কাঠ, কংক্রিটের জঙ্গল এবং অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোকেই এই সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাঙ্ক ভারতের ২৪টি শহরের উপর একটি বিশদ বিশ্লেষণ চালিয়েছে। এতে দেখা গেছে, লখনৌ, চেন্নাই, সুরাট, ইন্দোর এবং নয়াদিল্লির মতো শহরগুলোতে রাতের তাপমাত্রা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, লখনৌ শহরে রাতের তাপমাত্রা আশপাশের গ্রামীণ এলাকার চেয়ে প্রায় ৫ ডিগ্রি বেশি থাকছে, যা সর্বোচ্চ। চেন্নাই এবং সুরাটের মতো শহরগুলোতেও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ৩-৪ ডিগ্রি। এর মূল কারণ হিসেবে অপরিকল্পিত বহুতল নির্মাণ এবং কংক্রিটের রাস্তা থেকে বিকিরণকে দায়ী করা হয়েছে।

ভবিষ্যতের ভয়াবহ পূর্বাভাস

রিপোর্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই হারে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বছরে এমন দিনের সংখ্যা ১৬৫-তে পৌঁছাবে, যখন রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামবে না। বর্তমানে এই সংখ্যা ৬৫।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্যার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগামী ৫০ বছরে শহরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা ৭৩-১০০% পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে দিল্লিতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে কেবল দিল্লিকে বন্যা থেকে রক্ষা করতে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে, যা ২০৭০ সালের মধ্যে ১৪ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতিকার

বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে পুনে, মুম্বই, সুরাট, লখনৌ, বারাণসী, আমেদাবাদ, চেন্নাই, দিল্লি, কলকাতা এবং ইন্দোরকে ভারতের ১০টি বড় শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ‘হিট স্ট্রেস’ বাড়ছে। এর ফলে স্বাস্থ্যের সমস্যা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে মৃত্যুহার। বর্তমানে ভারতে প্রতি বছর গড়ে ১.৪ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় অত্যধিক গরমের কারণে। এই সংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ ৩.২৮ লক্ষে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাঙ্ক ভারতকে এই বিপদ থেকে বাঁচাতে এখনই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তারা মনে করে, প্রতিটি বহুতলের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক পরিকল্পনা এবং ছোট ছোট কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব। উপযুক্ত বিনিয়োগ এবং সচেতনতা দিয়ে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো যেতে পারে বলে রিপোর্টে জোর দেওয়া হয়েছে।