রাতের জাতীয় সড়কে ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় চলল গুলি! দুষ্কৃতীদের মুখোমুখি লড়েও তুললেন ভিডিও, হতবাক পুলিশ

জাতীয় সড়ক-১৯-এ রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এক রোমহর্ষক ছিনতাই ও গুলির ঘটনায় রীতিমতো থমকে গেছে পুরো এলাকা। আসানসোলের শ্রীহরি গ্লোবাল স্কুলের রাতের ডিউটিতে যাওয়ার পথে সালানপুরের আল্লাডি পঞ্চায়েতের ধাগুড়ির বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সি হরিদাস লায়েক দুষ্কৃতীদের সশস্ত্র হামলার শিকার হন। দিল্লি পাবলিক স্কুলের কাছে বাইকে করে আসা মুখ ঢাকা তিন দুষ্কৃতী তাঁর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে হরিদাস প্রবলভাবে বাধা দেন। নিজের সর্বস্ব ও ব্যাগ বাঁচাতে বিন্দুমাত্র পিছপা হননি তিনি। দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি চালালে দুটি গুলিই তাঁর পায়ে লাগে। রক্তে ভেসে যাওয়া শরীর নিয়েও দমে যাননি হরিদাস; বরং চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি মোবাইল ফোনে ওই তিন সশস্ত্র দুষ্কৃতীর ভিডিও রেকর্ড করার চেষ্টা করেন। গুলির শব্দ ও গোলমালে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই সালানপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তে রক্তাক্ত হরিদাসকে উদ্ধার করে অবিলম্বে স্থানীয় ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা উদ্ধার করেছে। ঘটনার পরপরই অপরাধীদের ধরতে গোটা এলাকায় শুরু হয়েছে কড়া নাকা-চেকিং এবং তল্লাশি অভিযান। পাশাপাশি আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশের শীর্ষমহল অত্যন্ত তৎপর হয়েছে। পুলিশ কমিশনার ডঃ প্রণব কুমার, ডিসি ওয়েস্ট সানা আখতার এবং ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাসসহ প্রশাসনের একাধিক পদস্থ আধিকারিক গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছেন।

অন্যদিকে, অপর একটি পৃথক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে আন্তর্জাতিক প্রসাধনী পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ ও ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসাররা। বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখতেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। ধৃতদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আনুমানিক ১৭ কোটি টাকার বিলাসবহুল বিদেশি প্রসাধনী সামগ্রী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সম্পূর্ণ বিনা অনুমতিতে ও বেআইনি উপায়ে মালয়েশিয়া থেকে বিমানে করে কলকাতায় পাচার করা হচ্ছিল। কলকাতা বিমানবন্দর থানার পুলিশ এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকদের যৌথ উদ্যোগে এই সফল অভিযান চালানো হয়। বিমানবন্দর চত্বরে রাতের আঁধারে ফাঁদ পেতে এই আন্তর্জাতিক চক্রের দুই পাণ্ডাকে পাকড়াও করা হয়। এই বিশাল পাচার চক্রের পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক বা দেশীয় চক্র যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশি জেরার মুখে ধৃতদের কাছ থেকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।