রাজীব কুমারের আগাম জামিন মামলায় সিবিআইকে কড়া প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, “৬ বছর ধরে মামলা করার কথা ভাবেননি কেন?”

কলকাতা হাইকোর্ট থেকে পাওয়া রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের আগাম জামিনের বিরোধিতা করতে গিয়ে উল্টে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) কড়া প্রশ্নের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। সোমবার প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের বেঞ্চে মামলার শুনানির শুরুতেই প্রশ্ন ওঠে, “ছয় বছর ধরে কেন সিবিআই মামলা করার কথা ভাবল না?”

এই ঘটনায় বাংলার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সিবিআই-এর বিরুদ্ধে ‘সম্মানহানির’ অভিযোগ
সিবিআইয়ের হয়ে সওয়াল করা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি এই প্রশ্ন তোলেন। এর পাল্টা জবাবে রাজীব কুমারের আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেব সুপ্রিম কোর্টে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন।

** আইনজীবীর সওয়াল:** তিনি দাবি করেন, দেশের অন্যতম সেরা একজন আইপিএস অফিসারের সম্মানহানি এবং তাঁকে বদনাম করার উদ্দেশ্যেই রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে সিবিআই।

তলব না করার অভিযোগ: আইনজীবী বলেন, ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে রাজীব কুমার আগাম জামিন পাওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁকে ‘কুকুরের মতো ধাওয়া করা হয়েছিল’। কিন্তু জামিন পাওয়ার পর অক্টোবর ২০১৯ থেকে তাঁকে একবারও ডাকা হয়নি। রাজীব কুমার বারবার চিঠি লিখে তদন্তে সহযোগিতা করার কথা বলার পরও সিবিআই তাঁকে তলব করেনি।

কী কারণে মামলা?
সারদা চিটফান্ড মামলায় তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে রাজীব কুমারের আগাম জামিন খারিজ করার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিবিআই।

২০১৯ সালে রাজীব কুমারকে প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট জামিন দেয়, যা পরে সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যাহার করে নিলেও নতুন করে জামিনের আবেদনের সুযোগ দিয়েছিল।

সেই মতো কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করলে রাজীবের আগাম জামিন মঞ্জুর হয়। এই জামিন খারিজের আবেদন জানিয়েই সিবিআই ফের সুপ্রিম কোর্টে আসে।

প্রাথমিকভাবে প্রধান বিচারপতি সিবিআইয়ের যুক্তি মানতে রাজি না হলেও, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার দীর্ঘ অনুরোধের পর শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালত মামলা খারিজ না করে শুনতে রাজি হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৭ অক্টোবর।