রয়েছে একাধিক কলেজ-ওষুধের কারখানা, ‘ভুয়ো থানা’ চালানো প্রাক্তন TMC নেতার সম্পত্তি কত?

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানো বীরভূমের বিভাস অধিকারী এবার নয়ডায় ভুয়ো থানা খুলে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। এই গ্রেফতারির পর তার একের পর এক কুকীর্তি সামনে আসছে। নয়ডা পুলিশের তদন্তে কেবল নয়ডাই নয়, কলকাতার বেলেঘাটায়ও তার ভুয়ো থানা চালানোর কারবার ফাঁস হয়েছে। বিভাসের এই প্রতারণার জাল কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রাজনৈতিক পরিচয় এবং শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে যোগ:
জানা গেছে, বিভাস অধিকারী একসময় বীরভূমের নলহাটি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। তবে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে তার নাম সামনে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে। এরপর তিনি তৃণমূল ছেড়ে ‘অল ইন্ডিয়া আর্য মহাসভা’ নামে নিজস্ব একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেন এবং শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনেও প্রার্থী দিয়েছিলেন।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যুব তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা কুন্তল ঘোষ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে আসে বিভাস অধিকারীর নাম। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের গ্রেফতারির পর তদন্তে আরও তথ্য উঠে আসে, যার ভিত্তিতে বিভাসের খোঁজ চলছিল।
ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার জাল:
বিভাসের প্রতারণা শুধু রাজনৈতিক যোগ বা ভুয়ো থানা খোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বীরভূমের কৃষ্ণপুর এলাকায় তার একটি আশ্রম রয়েছে এবং এছাড়াও তার একাধিক আয়ুর্বেদিক কলেজ, আয়ুর্বেদিক ওষুধ কারখানা, বি.এড কলেজ, ডি.এড কলেজ এবং নার্সিং কলেজ রয়েছে। বীরভূমে তার নিজস্ব বাড়ির পাশাপাশি কলকাতা এবং দিল্লিতেও তার ফ্ল্যাট আছে।
নয়ডা এবং কলকাতার ভুয়ো থানা:
সম্প্রতি নয়ডার সেক্টর ৭০ এলাকায় ‘ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন’ লেখা সাইনবোর্ড লাগিয়ে একটি ভুয়ো থানা খোলার জন্য তাকে গ্রেফতার করে নয়ডা পুলিশ। এর পরপরই তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, বিভাস এবং তার ছেলে মিলে কলকাতার বেলেঘাটাতেও একটি নকল থানা চালিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে তারা ‘ন্যাশনাল ব্যুরো অফ সোশ্যাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড জাস্টিস’ নামে একটি ভুয়ো সংস্থার আড়ালে তোলাবাজির কারবার চালাত।
পুলিশের ধারণা, বিভাসকে জেরা করে তার এই বিশাল অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে ভুয়ো থানা খুলে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার এই ঘটনাটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।