রঙিন শহরের রূপকথা! ভারতের কোন কোন শহর পরিচিত তাদের নিজস্ব রঙে?

ভারত শুধু তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেই সমৃদ্ধ নয়, এখানকার সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং শিল্পকলাও বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে। প্রতিটি শহর এবং গ্রামেরই নিজস্ব কিছু গল্প ও ঐতিহ্য রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু শহর তাদের বিশেষ রঙের জন্য দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পরিচিত। রাজস্থানের গোলাপি শহর জয়পুর হোক বা দক্ষিণ ভারতের সবুজ নগরী—এই শহরগুলোর নামকরণের পেছনের ইতিহাস অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর ‘পিঙ্ক সিটি’ বা ‘গোলাপি শহর’ নামে বিশ্বজুড়ে খ্যাত। এই নামকরণের ইতিহাস ১৮৭৬ সালের। কথিত আছে যে, প্রিন্স অফ ওয়েলস অ্যালবার্ট এডওয়ার্ডকে স্বাগত জানাতে তৎকালীন মহারাজা সওয়াই রাম সিং দ্বিতীয় জয়পুরের পুরনো শহরটিকে টেরাকোটা-গেরুয়া আভা বা গোলাপি রঙে রাঙিয়ে দিয়েছিলেন। আজও এখানকার ঐতিহাসিক ভবনগুলোতে সেই ঐতিহ্য বজায় রয়েছে। অন্যদিকে, রাজস্থানেরই জয়সলমের শহরটি ‘সোনালী শহর’ নামে পরিচিত। এখানকার পুরোনো অট্টালিকা ও রাজপ্রাসাদ হলুদ বেলেপাথর দিয়ে তৈরি। যখন থর মরুভূমির ওপর দিয়ে সূর্যের আলো এই পাথরগুলোর ওপর পড়ে, তখন পুরো শহরটি এক অপূর্ব সোনালী আভায় ঝলমল করে ওঠে। মহারানা উদয় সিং দ্বারা প্রতিষ্ঠিত উদয়পুর পরিচিত ‘শ্বেত নগরী’ হিসেবে। তৎকালীন শাসকরা তাদের ইমারত নির্মাণে প্রধানত সাদা মার্বেল ব্যবহার করতেন, যা রোদের আলোয় চমৎকার রূপ নেয়। এ ছাড়া, নীল রঙে রাঙানো বাড়িগুলোর জন্য রাজস্থানের যোধপুর পরিচিত ‘ব্লু সিটি’ বা ‘নীল শহর’ নামে। প্রথম দিকে ব্রাহ্মণরা নিজেদের আলাদা করে চিনতেই এই রঙ ব্যবহার শুরু করলেও পরে তা পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজস্থানের বাইরেও রয়েছে এমন বর্ণময় শহর। মহারাষ্ট্রের নাগপুরকে বলা হয় ‘কমলার শহর’। এটি ফলের নামের উপর ভিত্তি করে পরিচিত, কারণ এখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টন জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত বিখ্যাত কমলা উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের তিরুবনন্তপুরম বা ত্রিভেন্দ্রম পরিচিত ‘ভারতের চিরসবুজ শহর’ হিসেবে। মহাত্মা গান্ধী এই শহরটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও চিরসবুজে মুগ্ধ হয়ে এই নামকরণ করেছিলেন। সাতটি পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই শহরে ক্রান্তীয় জলবায়ুর কারণে প্রচুর গাছপালা ও সবুজ বাগান রয়েছে। এই রঙিন শহরগুলো কেবল ভারতের ঐতিহ্যকেই সমৃদ্ধ করে না, বরং দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এক অনন্য দলিল হয়ে পর্যটকদের মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে।