যোগী আদিত্যনাথের “রাজ” চাই পশ্চিমবঙ্গে! দুর্গাপুর-রাজগঞ্জ কাণ্ডে শুভেন্দুর হুঙ্কার; ‘শকুনের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ কুণালের।

দুর্গাপুর থেকে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ—নারী নির্যাতনের একের পর এক অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ওড়িশার এক মেডিক্যাল পড়ুয়াকে গণধর্ষণ এবং এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের শাসন চাইলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের ‘জমা নিয়ে খরচ করে দেওয়া উচিত ছিল সঙ্গে সঙ্গে’। শুভেন্দুর এই কড়া মন্তব্যের পাল্টা তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ‘শকুনের রাজনীতি’ করার অভিযোগ তুলেছেন।

যোগী রাজের পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর:
রাজ্যজুড়ে নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “এখানে যোগী আদিত্যনাথের রাজ চাই, হ্যাঁ কি না? এদের তো জমা নিয়ে খরচ করে দেওয়া উচিত ছিল সঙ্গে সঙ্গে।”

দুর্গাপুরে ক্যাম্পাসের কাছে দ্বিতীয় বর্ষের এক মেডিক্যাল পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল। বিজেপি-শাসিত ওড়িশার বাসিন্দা ওই তরুণীর ওপর হওয়া এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। এই আবহেই শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি-শাসিত আরেক রাজ্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের শাসন আনার পক্ষে সওয়াল করলেন।

দুর্গাপুরের পাশাপাশি জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগও তোলেন বিরোধী দলনেতা। এদিন তিনি নির্যাতিতার বাবার ভিডিও বার্তা শুনিয়ে বলেন, “জলপাইগুড়ির জেলার রাজগঞ্জে একটি রাজবংশী পরিবারে ক্লাস সেভেনের ছাত্রী, বয়স ১৩ বছর। তাকে ধর্ষণ করে, তার যে ক্ষতি করেছেন। এই ব্যক্তির নাম ডালিম মহম্মদ। এখানে যোগী আদিত্যনাথের রাজ চাই, হ্যাঁ কি না?”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই বাংলার লজ্জা, অপদার্থ পুলিশ তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর রাজত্বকালে পশ্চিমবঙ্গের গরিমা, মর্যাদা, সম্মান, এই রাজ্যের বাইরে তথা আমাদের দেশের বাইরে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।”

তৃণমূলের পাল্টা ‘শকুনের রাজনীতি’র অভিযোগ:
শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “ওরা শকুনের রাজনীতি করছেন। শুভেন্দু অধিকারীরা, ধরুন কোনও খারাপ ঘটনা ঘটল। সিপিএমের জমানায় ভুরি ভুরি ঘটেছে। বিজেপির রাজ্যগুলোতে রোজ ঘটছে।”

ওড়িশা ও বাংলার রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এদিকে, দুর্গাপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার সঙ্গেও। বিজেপি-শাসিত ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে ১ ওড়িয়া ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং বেদনাদায়ক।” এরপর তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করেন।

পাল্টা, তৃণমূল নেতৃত্ব ওড়িশার সাম্প্রতিক নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলি মনে করিয়ে দিয়েছে। নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “রাজ্য সরকার সহানুভূতি রাখে। যারা এই ধরনের মন্তব্য করছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি, তাদের বুঝতে হবে ওড়িশাতেও এরকম মহিলা শিক্ষার্থী, তার ওপরে অপরাধ হয়ে তারপরে সে নিজের গায়ে আগুন দিল। মারা গেল। এগুলো হওয়া উচিত নয়।” তিনি গত জুলাই মাসে ওড়িশার বালেশ্বরে এক কলেজ ছাত্রীর যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী হওয়া এবং পুরীতে এক কিশোরীর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে এক্স পোস্ট করে জানানো হয়েছে, “দুর্গাপুরে ওড়িশার মেডিক্যাল পড়ুয়ার যৌন অত্যাচারের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। সকলকে নিশ্চিত করে বলতে চাই, কোনও দোষীকে ছাড়া হবে না। নির্যাতিতার পাশাপাশি এই যন্ত্রণা যতটা ওড়িশার, ততটাই আমাদেরও।” ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল দুর্গাপুরে আসছে বলে খবর। তারা নির্যাতিতার পরিবারের পাশাপাশি এ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করবে।