আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির যুবভারতী সফরের সময় স্টেডিয়ামে সৃষ্ট নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার ঘটনায় এবার নজরে স্টেডিয়ামের ভিতরের ও বাইরের গেটে মোতায়েন থাকা পুলিশকর্মীরা। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কীভাবে গ্যালারিতে জলের বোতল প্রবেশ করল, সেই নিরাপত্তা গাফিলতি খতিয়ে দেখতে বিধাননগর কমিশনারেটের স্ক্যানারে রয়েছে গেটের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরা।
মাঠে বোতল ছোড়ার নেপথ্যে মুনাফার চক্র!
বিধাননগর কমিশনারেটের তরফ থেকে মেসি শহরে পা-রাখার আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে জানানো হয়েছিল, জলের বোতল কিংবা কোনো ভারী বস্তু নিয়ে মাঠে প্রবেশ করা যাবে না। কিন্তু ঘটনার উৎস বোতল ছোড়াকে কেন্দ্র করে হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
বিধাননগর পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে:
-
বোতলের রমরমা ব্যবসা: পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে যে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বেআইনিভাবে প্রচুর জলের বোতল স্টেডিয়ামের ভিতরে প্রবেশ করিয়েছিল।
-
দামের হেরফের: বাজারে যে বোতলের দাম কুড়ি টাকা, সেই বোতল স্টেডিয়ামের ভিতরে এক-একটি দেড়শো টাকায় বিক্রি হয়।
একাধিক অভিযোগকারী এবং ক্ষুব্ধ দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ এই তথ্য জানতে পেরেছে।
ডিজি রাজীব কুমারের হস্তক্ষেপ
এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বয়ং রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সরাসরি ময়দানে নেমেছেন। বিধাননগর কমিশনারেটের একজন নগরপাল থাকা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশের ডিজি-র এই হস্তক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তের আওতায় সিসিটিভি ফুটেজ
ঘটনার পরপরই বিধান নগর কমিশনারেটের তরফে মাঠ ফাঁকা করে দেওয়া হয়। তবে জলের বোতল কীভাবে ভিতরে প্রবেশ করল, সেই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ।
-
সিসিটিভি সংগ্রহ: ইতিমধ্যে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণের ভিতরের ও বাইরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
-
পুলিশের ভূমিকা: মূলত এটা জানার চেষ্টা চলছে যে, কারা এই জলের বোতল নিয়ে স্টেডিয়ামের ভিতরে ঢুকল এবং গেটের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরা কীভাবে ওই বোতলগুলি ভিতরে ঢোকার অনুমতি দিল, কিংবা কীভাবে তাঁদের চোখ এড়িয়ে গেল বিষয়টি।
রাজ্য পুলিশের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা আগে পর্যবেক্ষণ করে দেখা উচিত। আমাদের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীকেও মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হবে।”
তবে, বিশ্ববিখ্যাত তারকার কলকাতা সফরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এমন গাফিলতি কেন হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, মেসির আন্তর্জাতিক স্তরের ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা কেমন হওয়া উচিত, এই ঘটনা থেকে তার শিক্ষা নেওয়া জরুরি।