যুদ্ধের খরচ জোগাতে চরম সিদ্ধান্ত! রাশিয়াকে রুখতে এবার নীল ছবিকে বৈধ করতে চলেছে ইউক্রেন?

২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি ও রক্তক্ষয়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ সামলাতে গিয়ে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে কিয়েভ প্রশাসন। যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনের জন্য তহবিল জোগাড় করতে এবার এক অভাবনীয় ও বিতর্কিত পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে ভলোদিমির জেলেনস্কির দেশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের খরচ জোগাতে এবং বিপুল রাজস্ব আদায় করতে এবার প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন শিল্প বা নীল ছবিকে দেশের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছে ইউক্রেন।

আয় বৃদ্ধির অভিনব রূপরেখা:
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের সংসদের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াকের সমর্থিত একটি নতুন বিলে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, প্রাপ্তবয়স্কদের এই লাভজনক বিনোদন শিল্পকে যদি আইনি অর্থনীতির আওতায় এনে করের জালে ফেলা যায়, তবে এর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতে পারে। সংসদ সদস্য জেলেজনিয়াকের সুনির্দিষ্ট হিসাব বলছে যে, এই বিপুল পরিমাণ করের অর্থ দিয়ে ইউক্রেন সামরিক বাহিনীর জন্য সরাসরি প্রায় ৩০ হাজার অত্যাধুনিক ড্রোন ক্রয় করতে পারবে, যা সম্মুখসমরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

আইনি নিষেধাজ্ঞা ও করের জটিলতা:
উল্লেখ্য, বর্তমানে ইউক্রেনের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পর্নোগ্রাফি বা নীল ছবি তৈরি, সংরক্ষণ কিংবা বিতরণ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এই অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত জেলের কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তা সত্ত্বেও আইনগত নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির বেড়াজালকে এড়িয়ে কিয়েভে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের ব্যবসা গোপনে জমজমাটভাবে চলছে। সম্প্রতি ইউক্রেনীয় প্রশাসন এই সমস্ত কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছ থেকে জোরকদমে কর আদায়ের উদ্যোগ শুরু করলেও দেখা দিয়েছে এক মারাত্মক আইনি জটিলতা। নির্মাতারা নিজেদের উপার্জনের সঠিক হিসাব সরকারকে জানালেই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ প্রশস্ত হয়ে যায়, কারণ এই পেশা এখনও ইউক্রেনের আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলস্বরূপ, কর প্রদান করলে আইনি মারপ্যাঁচে পড়ার ভয় এবং কর না দিলে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় চরম বিপাকে পড়েছেন দেশের কনটেন্ট নির্মাতারা।