‘যা এতদিন বলা যেত না, আজ বলা যাবে!’-শুভেন্দু-শতাব্দী হাইভোল্টেজ মিটিংয়ের আগে বিস্ফোরক মন্তব্য

জাতীয় রাজনীতি এবং বঙ্গ রাজনীতিতে ফের এক নতুন ও নাটকীয় মোড়। সোমবার দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়ে সামনে এল এক বিস্ফোরক খবর। মঙ্গলবার ঠিক দুপুর ১টায় নয়াদিল্লির বঙ্গভবনে এনডিএ (NDA) শরিক দল এনসিপিআই বা ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র ২০ জন সাংসদের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়ের মতো একসময়ের ঘাসফুল শিবির ছেড়ে যাওয়া হেভিওয়েট সাংসদদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে শুরু হয়েছে চরম জল্পনা।

কোন সমীকরণে এই বৈঠক? তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার ঠিক পরেই দলবদল করে এই নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করা ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সংসদ থেকে রাজপথ পর্যন্ত সরব রয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের শীর্ষ স্তরের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সরাসরি দেখা করে দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আর্জি জানিয়েছেন। এমনকি লোকসভায় এই বিদ্রোহী সাংসদদের বসার আসনও পরিবর্তন করা হয়েছে। এমন টানাপোড়েনের ও উত্তেজনার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠক যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা একবাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বৈঠকের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়ে এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায় সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, “মঙ্গলবার ১টার সময় বঙ্গভবনে বৈঠক আছে। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সমস্ত সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আমাদের কারও ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত কিছু বলার আছে কি না, তা তিনি জানতে চাইবেন। যা এতদিন দলের অন্দরে বলা যেত না, সেই কথাগুলো হয়তো আমরা এখন স্পষ্টভাবে বলতে পারব।” পাশাপাশি, তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের সমস্ত জল্পনা জোরালোভাবে উড়িয়ে তিনি দাবি করেন যে, তাঁরা আইনসম্মত ও সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করেছেন এবং এই বিষয়ে এখন স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন।

কী হতে পারে এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা? যদিও এই হাইভোল্টেজ বৈঠকের নির্দিষ্ট কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবে রাজনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসতে পারে:

  • সংসদীয় রণকৌশল: সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনে রাজ্যের কোন কোন জনকল্যাণমূলক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এনসিপিআই সাংসদরা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবেন, তা নিয়ে রূপরেখা তৈরি হতে পারে।

  • উন্নয়নমূলক সমন্বয়: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের উন্নয়নমূলক কাজ এবং সাংসদ তহবিলের (MP Lads) সঠিক অর্থ ব্যবহার ও পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা হতে পারে।

  • রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: এনডিএ-র শরিক হিসেবে এই দলটির আগামী দিনের রাজনৈতিক অবস্থান এবং যৌথ রণকৌশল কেমন হবে, তা নিয়েও এই বৈঠকে নীতিনির্ধারক স্তরে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ ও ভাঙনকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবির নতুন কোনও বড় রাজনৈতিক কৌশল সাজাচ্ছে কি না, এখন সেই দিকেই তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। মঙ্গলবার দুপুরের এই বঙ্গভবন বৈঠক থেকে ঠিক কী বার্তা উঠে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।