যাদবপুরে থাকতে গেলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক, স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র উত্তাপ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ নিয়ে কড়া ভাষায় মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ভবানীপুরের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই রাজ্যে থাকতে হলে বন্দে মাতরম গাইতেই হবে। জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেমের প্রশ্নে তাঁর সরকার বিন্দুমাত্র আপস করবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

গত লোকসভা ভোটের পর বিপুল জনাদেশ নিয়ে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর কেটে গিয়েছে ১০৬ দিন। মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম যাদবপুর ইস্যুকে সামনে রেখে এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলেন শুভেন্দু। যাদবপুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বাধা, সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে না দেওয়া এবং দেশবিরোধী স্লোগান তোলার মতো ঘটনাগুলিকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, টুকরে টুকরে গ্যাং বা জিহাদী গোষ্ঠীর এই ধরনের তৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা হবে। আগামী রাখিপূর্ণিমার দিন বিকালেই যাদবপুরে দশ হাজার কণ্ঠে একসঙ্গে বন্দে মাতরম গাওয়ার বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দল।

এদিনের মঞ্চ থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। পিসি ও ভাইপোর আমলের সমস্ত লুটের হিসাব নেওয়া হবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, রাজ্যবাসীর জন্য একাধিক নতুন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কুল সার্ভিস কমিশনে স্বচ্ছতা ফেরাতে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ ও আইআইএম অধ্যাপকদের যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে বর্তমান সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই অর্থ পৌঁছতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মাত্র ১০৬ দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। নিজের অবস্থান থেকে সরকার একচুলও নড়বে না বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।