যশোর রোডে আচমকা সান্তা! ঝুলি ভর্তি উপহার আর সেলফির আবদারে হুলুস্থুল হাবরায়

বড়দিনের আগের রাত। কনকনে ঠান্ডার আমেজ গায়ে মেখে হাবরার যশোর রোডে তখন সাধারণ মানুষের ভিড়। আচমকাই সেই চেনা ভিড়ের মাঝে উদয় হলেন লাল পোশাক, মাথায় টুপি আর কাঁধে উপহারের বিশাল ঝুলি নিয়ে এক সান্তা ক্লজ! হাবরা এক নম্বর গেট থেকে স্টেশন রোড— যেখানেই তিনি পা রাখছেন, মুহূর্তের মধ্যে বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। ছোটদের হাতে চকলেট, খেলনা তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে বড়দের সঙ্গে সেলফি তোলা, বড়দিনের প্রাক্কালে হাবরা যেন হয়ে উঠল এক টুকরো বিদেশি শহর।
রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় ঘণ্টা বাজিয়ে সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন এই সান্তা। কচিকাঁচাদের মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করা আর ভালো করে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিতেও ভোলেননি তিনি। যশোর রোডের যানচালকরাও কৌতূহলবশত গাড়ির গতি কমিয়ে এই দৃশ্য উপভোগ করতে থাকেন। কিন্তু কে এই সান্তা ক্লজ? যার ম্যাজিকে মেতে উঠল গোটা শহর?
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এই সান্তা ক্লজ আসলে হাবরার বাণীপুর এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব সাহা। পেশায় তিনি একজন টোটো চালক হলেও, মনের দিক থেকে তিনি একজন খাঁটি শিল্পী। বহুরূপী সেজেই মানুষের মুখে হাসি ফোটানো তাঁর নেশা। এর আগেও কার্তিক সেজে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন বিপ্লব বাবু। এবার বড়দিনে সান্তার রূপ ধরে আবারও মন জয় করলেন সবার। বিপ্লব সাহা বলেন, “আমি সাধারণ একজন টোটো চালক হতে পারি, কিন্তু সাধারণ মানুষকে একটু আনন্দ দিতে পারলেই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। বাচ্চাদের খুশি দেখে আজ মনটা ভরে গেল।” হাবরাবাসীর কাছে বিপ্লববাবুর এই উদ্যোগ বড়দিনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি হয়ে থাকল।