মাত্র ১০ হাজার টাকা খরচ করে ১ বিঘা জমিতে দেড় লাখ টাকা লাভ! চাষের এই আধুনিক পদ্ধতি বদলে দিচ্ছে কৃষকদের ভাগ্য

উত্তর প্রদেশের রামপুরের প্রগতিশীল কৃষক আবদুল্লাহ দীর্ঘ বছর ধরে সফলভাবে ‘আশা এফ১’ (Asha F1) জাতের ক্যাপসিকাম চাষ করে এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছেন। চলতি মরশুমেও তিনি প্রায় এক একর জমিতে এই উন্নত জাতের চাষ করেছেন। কৃষকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সঠিক পরিচর্যা ও নিয়ম মেনে চাষ করলে এই জাতের ক্যাপসিকাম থেকে প্রতি বিঘায় প্রায় ২০ কুইন্টাল পর্যন্ত বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব। বাজারে যদি ক্যাপসিকামের গড় দাম প্রতি কেজি ৩০ টাকা কাছাকাছি থাকে, তবে সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে এক বিঘা জমি থেকেই ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পরিষ্কার লাভ করা যেতে পারে।

কৃষক আবদুল্লাহর মতে, ক্যাপসিকাম চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাথমিক ধাপ হলো সঠিক পদ্ধতিতে চারাগাছ তৈরি করা। আবহাওয়া এবং অঞ্চলের জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে চারা তৈরির সময় কিছুটা পরিবর্তিত হয়। তবে যথাযথ পরিচর্যা করলে বীজ বপনের মাত্র ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই চারা রোপণের উপযোগী হয়ে ওঠে। এর জন্য পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও উর্বর মাটিযুক্ত নার্সারি বিছানা তৈরি করে বীজ বপন করতে হয়। চারা গজানোর পর নিয়মিত সেচ, সুষম পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সেগুলোকে শক্তিশালী করে তবেই মূল জমিতে স্থানান্তরিত করা হয়।

ক্যাপসিকামের ভালো ও মানসম্মত ফলন নিশ্চিত করতে জমি প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত যত্নসহকারে করতে হয়। চারা রোপণের আগে মাটি ভালোভাবে চাষ করে আলগা ও ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। গাছের শিকড় পচে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে জমিতে সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। জমি প্রস্তুত হওয়ার পর নির্দিষ্ট দূরত্বে বেড তৈরি করা হয়, যাতে গাছগুলি পর্যাপ্ত সূর্যালোক, বায়ুচলাচল এবং বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পেতে পারে।

‘আশা এফ১’ হলো ক্যাপসিকামের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও উন্নত সংকর জাত, যা এর অধিক ফলন এবং উৎকৃষ্ট ফলের গুণমানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই জাতের ফলগুলি গাঢ় সবুজ রঙের, চকচকে এবং সুন্দর চৌকো আকৃতির হয়ে থাকে। প্রতিটি ফলে তিনটি থেকে চারটি স্পষ্ট খণ্ড বা লোব থাকে এবং একটি ক্যাপসিকামের ওজন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। এই ফলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর দেয়াল বা পেরিষ্কার বেশ পুরু ও মজবুত হয়, যার ফলে সহজে দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহন করা যায়। কৃষক আবদুল্লাহর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং এই বিশেষ পদ্ধতির হাত ধরে রামপুরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।