যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা মোদি সরকারের! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠল জাতীয় রাজধানী দিল্লি। সোমবার বিরোধীদের উত্তাল পদক্ষেপে কেঁপে ওঠে দিল্লির রাজপথ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদবসহ ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা কনস্টিটিউশন ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন। বারাখাম্বা রোড ও কনট প্লেসের ওপর দিয়ে এই সুবৃহৎ মিছিল সোজা সুপ্রিম কোর্টের দিকে অগ্রসর হয়।

এই আন্দোলনের আবহে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে, লুটিয়েন্স দিল্লির অন্তর্গত ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর চত্বরকে আর বিক্ষোভ বা আন্দোলনের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে রাখা হবে না। প্রতিবাদ দমনের এই সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, “আজ মোদি যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নির্ধারিত স্থান হিসেবে স্বীকৃতি বাতিল করলেন। আগামীকাল তিনি খোদ গণতন্ত্রের স্বীকৃতিই বাতিল করে দেবেন। স্বৈরাচারের সমস্যাটা কখনোই বিক্ষোভের স্থান নিয়ে ছিল না; সমস্যাটা ছিল মানুষের প্রতিবাদ করার ধারণা নিয়েই।” এর আগে পুলিশের তরফ থেকে রাজধানীতে এ ধরনের জমায়েতের জন্য তিনটি বিকল্প স্থানও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতি না মেলায় ককরোচ জনতা পার্টির নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা পুলিশ-প্রশাসনকে চরম আল্টিমেটাম দিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় উপস্থিত হন। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যেই সোমবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি হাই-ভোল্টেজ পিটিশন দাখিল করেন রাহুল গান্ধী, সৌগত রায়, এম এ বেবি, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদবসহ ১১ জন বিরোধী দলীয় শীর্ষ নেতা। সার্বিক পরিস্থিতি যে আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।