মোবাইল ফোনের লোভে ভাইপোকে খুন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত কাকা

একটি মোবাইল ফোনের লোভে নিজের ১৪ বছরের ভাইপোকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হল এক যুবক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দু’মাস ধরে তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্ত আলমগীর ঢালিকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে দাঁড়িয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বুধবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্যানিং থানার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা আনারুল ঢালি (১৪)-কে গত ২৮ মে তার কাকা আলমগীর ঢালি মাছ ধরার নাম করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সেদিন আনারুল আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে ক্যানিং থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরের দিনই স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আনারুলের দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো স্পষ্ট সূত্র না পাওয়ায় পুলিশ কিছুটা ধন্দে ছিল। তদন্তের প্রথম দিকে গোপালপুর এলাকার এক মহিলা হামিদার উপর সন্দেহ করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কোনো সূত্র মেলেনি।

দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ অবশেষে খুনের আসল কারণ ও অভিযুক্তের সন্ধান পায়। পুলিশি জেরায় আলমগীর ঢালি স্বীকার করে যে, সে তার ভাইপো আনারুলের মোবাইল ফোনটি হাতানোর জন্যই এই নৃশংস কাজটি করেছে। একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আনারুলকে খুন করে তার দেহ জলাশয়ে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল সে। আলমগীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার কাছ থেকে আনারুলের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেছে।

ক্যানিংয়ের এসডিপিও রামকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, “আমরা তদন্ত করে দেখছি, শুধুমাত্র মোবাইল ফোনের জন্যই এই খুন নাকি এর পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। এই খুনের ঘটনায় আলমগীর ছাড়াও অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মোবাইল ফোনের মতো একটি তুচ্ছ বস্তুর জন্য এমন একটি নৃশংস ঘটনা ক্যানিংয়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পুরো ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে রেখে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা করছে।