বর্তমান সময়ে শিশুদের স্মার্টফোনের নেশা বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিভাবকদের কাছে। কিন্তু সেই চেনা ছবিটাই বদলে দিল আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডের বইমেলা। সন্ধ্যা নামলেই এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে এক অন্য দৃশ্য— অভিভাবকদের হাত ধরে খুদে পাঠকরা স্টলে স্টলে খুঁজে ফিরছে তাদের প্রিয় গল্পের বই।
পছন্দের শীর্ষে ‘ভূত ও রহস্য’: মেলায় আসা প্রতিটি স্টলেই এবার বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে ছোটদের দিকে। বই ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবার ছোটদের মধ্যে রহস্য এবং ভূতের গল্পের প্রতি প্রবল আকর্ষণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কচিকাঁচাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে স্টলগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কমিকস, গোপাল ভাঁড় এবং নানা রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের বই।
অভিভাবকদের সফল প্রচেষ্টা: স্কুলের পড়া বাদে বাকি সময়টুকু মোবাইলে গেম খেলেই কাটত শিশুদের। এই আসক্তি কাটাতে চিকিৎসকরা মেডিটেশন থেকে শুরু করে কাউন্সেলিং-এর পরামর্শ দেন। কিন্তু আলিপুরদুয়ারের অভিভাবকরা বেছে নিয়েছেন বইয়ের পথ। সন্তানদের লেখকের সঙ্গে পরিচয় করানো এবং তাদের হাতে বই তুলে দেওয়ার এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
কী বলছে খুদে পাঠকরা? মেলায় আসা খুদে পড়ুয়া মাধুর্য দাস জানালো, সে মায়ের সঙ্গে এসেছে মেলায়। আগে থেকেই গোপাল ভাঁড় পড়তে ভালোবাসত সে, তবে এবার কিনেছে ভূতের গল্পের বই। আরসি চক্রবর্তীর মতো খুদে পড়ুয়ারাও এখন মজেছে রহস্যের গোলকধাঁধায়।
বই ব্যবসায়ীদের বয়ান: বই ব্যবসায়ী দুর্লভ দাস জানান, “ছোটদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আমরা প্রতিটি স্টলে কমিকস এবং রহস্যের বই রেখেছি। বর্তমানে মোবাইলের যুগে ছোটদের এভাবে বইয়ের প্রতি আগ্রহী হতে দেখে আমরা সত্যিই আনন্দিত।”
সম্পাদকের নোট: বই পড়ার অভ্যাস শিশুর কল্পনাশক্তি ও মেধা বিকাশে সাহায্য করে। আলিপুরদুয়ার বইমেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং আগামী প্রজন্মের মোবাইল আসক্তি কাটানোর এক নতুন দিশারি হয়ে দাঁড়িয়েছে।