মোবাইলে মাসুদ আজহারের অডিও ক্লিপ! মুম্বই থেকে গ্রেফতার ‘জৈশ’ সদস্য

দিনেরবেলা অ্যাপ বাইক চালানো ও পারফিউম বিক্রির আড়ালে চলত দেশের বিরুদ্ধে মারাত্মক নাশকতাকেন্দ্রিক ষড়যন্ত্র। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বড় সাফল্য পেল মহারাষ্ট্র পুলিশের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। শুক্রবার গভীর রাতে মুম্বইয়ের মাহিম মেট্রো স্টেশনের কাছ থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘জৈশ-ই-মহম্মদ’ (JeM)-এর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ৩৩ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম মহম্মদ হাসান আবু সারমাদ আখতার। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য ও মোবাইল ফোনের ডেটা দেখে তদন্তকারীদের চোখ কপালে উঠেছে।
মহারাষ্ট্র ATS সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহম্মদ হাসান আবু অ্যাপ বাইক (র্যাপিডো চালক হিসেবেও পরিচিত) চালানোর পাশাপাশি এলাকায় সুগন্ধি বা পারফিউম বিক্রির কাজ করত। কিন্তু এর নেপথ্যেই চলত তার আসল দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের মোবাইল ফোন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে সেখানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘জৈশ-ই-মহম্মদ’-এর প্রধান মাসুদ আজহারের একাধিক প্ররোচনামূলক অডিও ক্লিপ পাওয়া গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, ধৃত যুবক পাকিস্তানের গোয়েন্দা চর বা পিআইও (PIO)-দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখত। অনলাইনে সন্ত্রাসবাদী প্রচার চালানো এবং স্থানীয় স্তরে ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরির চেষ্টার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে তার বিরুদ্ধে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মহম্মদ হাসান একটি বিশেষ টেলিগ্রাম গ্রুপ পরিচালনা করত। গত ২০২৬ সালের ১ জুন সেই গ্রুপেই সে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের একটি অত্যন্ত উস্কানিমূলক অডিও আপলোড করেছিল। এছাড়াও, ‘ইবনে-ই-কাশিম’ নামের একটি পাকিস্তান-সমর্থিত কট্টরপন্থী টেলিগ্রাম চ্যানেলেরও নিয়মিত সদস্য ছিল এই ধৃত যুবক।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুম্বই সফরকালে তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অত্যন্ত বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছিল এই ধৃত যুবক। তার মোবাইল ফোন থেকে একাধিক দেশবিরোধী তথ্য ও প্রামাণিক নথি উদ্ধার করেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। এই চক্রের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে এবং এর পিছনে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে এখন জোরকদমে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে মুম্বই ATS-এর বিশেষ দল।