চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! মাঝরাতে বিকট ধোঁয়ায় হাহাকার, ৮০ যাত্রীর অলৌকিক প্রাণরক্ষা!

বিহারের জয়নগর থেকে পাঞ্জাবের অমৃতসরগামী ১৪৬৪৯ নম্বর শহিদ এক্সপ্রেসে ঘটল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। শুক্রবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরের নাগিনা স্টেশনের কাছে পৌঁছাতেই আচমকা একটি স্লিপার কোচে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে কামরাটি ঘনীভূত কালো ধোঁয়ায় ভরে উঠতেই যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। তবে চালক ও রেল কর্মীদের তৎপরতায় ট্রেনটি থামানো সম্ভব হয় এবং কামরায় থাকা অন্তত ৮০ জন যাত্রীকে অলৌকিক ও অলৌকিকভাবে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় ও রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে ট্রেনটি নাগিনা স্টেশনের কাছাকাছি এলে আচমকাই এস-৬ (S-6) স্লিপার কোচের ভেতর থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই কালো ধোঁয়ায় কামরার দৃশ্যমানতা শূন্য হয়ে যায়। ট্রেনটি স্টেশনে এসে পৌঁছাতেই দ্রুত তৎপরতার সঙ্গে পুলিশ ও রেল কর্মীরা সমস্ত যাত্রীকে হুড়োহুড়ি থেকে বাঁচিয়ে স্টেশন চত্বরে সুরক্ষিতভাবে বের করে নিয়ে আসেন। আগুনে হতাহতের কোনো ঘটনা না ঘটলেও, বহু যাত্রীর ব্যাগ, জামাকাপড় এবং মূল্যবান মালপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জিআরপি এবং ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। যে কামরাটিতে আগুন লেগেছিল, তার বৈদুতিক সংযোগ ও ওয়্যারিং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার পরই ট্রেনটিকে আবার তার গন্তব্যের দিকে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে ওই লাইনে প্রায় আধ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
প্রাথমিকভাবে রেল আধিকারিকদের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের উৎপত্তি। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। নাগিনা জিআরপির ইনচার্জ রাহুল যাদব জানিয়েছেন, “ঘটনার পরপরই সমস্ত যাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনে কিছু যাত্রীর জিনিসপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ কী, তা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।”