মোদীর সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ আপ! হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য কোন নতুন সংঘাতে জড়াল?

পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং আর্থিক অনুদান আটকে রাখা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পাঞ্জাব মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একযোগে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনওরূপ পরামর্শ না করেই বিচারপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করে একটি কড়া প্রস্তাব পাস করেছে মান মন্ত্রিসভা।

মূলত বিচারপতি অশ্বিনী কুমার মিশ্রকে এই পদে নিয়োগের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে, এটি প্রচলিত কার্যপ্রণালী স্মারকলিপি এবং সাংবিধানিক নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. বলবির সিং অভিযোগ করেছেন যে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের অন্যতম সিনিয়র মোস্ট জজ বিচারপতি জি.এস. সওয়ালিয়াকে পদ্ধতিগতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রদেশ সরকারও তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া দু’মাস আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ তুলেছে পাঞ্জাব।

বিচারপতি নিয়োগ ছাড়াও কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ার পেছনে রয়েছে আরও বেশ কিছু আর্থিক ও প্রশাসনিক বঞ্চনা। পাঞ্জাবের প্রাপ্য প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকার গ্রামীণ উন্নয়ন তহবিল (আরডিএফ) এবং বন্যা ত্রাণ প্যাকেজ কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, ভাকরা বিয়াস ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের (বিবিএমবি) নিয়মে কেন্দ্রের একতরফা পরিবর্তনেরও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাঞ্জাব মন্ত্রিসভা। রাজ্যের সাংবিধানিক অধিকারে বারবার কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে মোদী সরকারকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে মান প্রশাসন।