মোদীর মেগা মাস্টারপ্ল্যান! ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ৭ দেশের রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত দুই দিনের ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজ কূটনৈতিক স্তরে চরম ব্যস্ততা ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজকের মূল আকর্ষণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাতটি দেশের শীর্ষ রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান, ফিলিপিন্স, মিশর, বুরুন্ডি, উগندا এবং নাইজেরিয়ার মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলি। ভারত এবং এশিয়ান-আফ্রিকান দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও সুসংহত করতেই এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রবিবার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ ওপেন সেশন বা উন্মুক্ত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমের সামিট হলে আয়োজিত এই অধিবেশনের মূল আলোচ্য বিষয় হলো—”স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যৎ গঠন”। চলতি বছরের ব্রিকস সম্মেলনের মূল থিম “স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”-এর ওপর ভিত্তি করেই এই অধিবেশন এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলি পারস্পরিক সাধারণ স্বার্থের ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা আরও বেশি মজবুত করার পথ খুঁজছে। উল্লেখ্য, এর আগে শনিবারই সমস্ত ব্রিকস সদস্য দেশের দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে ঐতিহাসিক ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র’ গৃহীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘোষণাপত্রকে এমন একটি জোটের বাস্তব রূপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা উদ্দেশ্য ও বিস্তৃতি উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত শক্তিশালী। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী জানান যে এই ঘোষণাপত্র উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবীয় সম্পর্কের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থরক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা তৈরিতেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। তবে এই ঘোষণাপত্রে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও গুরুতর বিষয় জোরালোভাবে উঠে এসেছে। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সদস্য দেশগুলি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংঘাত না বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘাতের একটি স্থায়ী দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা অবাধে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্যের বাজারে চলা একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইচ্ছামতো শুল্ক বৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করেছে ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলি। তাদের মতে, পরিবেশের দোহای দিয়ে তৈরি বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা এবং সংরক্ষণবাদী নীতি বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভারতের সফল সভাপতিত্বে পরিচালিত এই ব্রিকস সম্মেলন বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশারদরা।