মোদীকে সোজা মস্কো যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন পুতিন! বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপে কোন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?

বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণের আবহেই ফের একবার নিবিড় বন্ধুত্বের বার্তা দিল ভারত ও রাশিয়া। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ২৪তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের সেই আমন্ত্রণে সম্মতিও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক (MEA) ইতিমধ্যেই যৌথ আলোচনার এই বড় আপডেট আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
চলতি বছরে দুই রাষ্ট্রনেতার এটি দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিস্কেকে ২৬তম এসসিও (SCO) সম্মেলনের সাইডলাইনেই বৈঠক হয়েছিল তাঁদের। শুক্রবার দিল্লির এই বৈঠকে রাজনীতি, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, শক্তি ক্ষেত্র এবং মহাকাশ গবেষণার মতো একাধিক কৌশলগত বিষয়ে দুই দেশের প্রগতির পর্যালোচনা করেন দুই নেতা। পাশাপাশি, ভারতে আয়োজিত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ‘ইনোপ্রোম ইন্ডিয়া’র ভূয়সী প্রশংসা করেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। আগামী ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই মেগা প্রদর্শনী দুই দেশের বাণিজ্য ও শিল্প সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে শুধু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বা প্রতিরক্ষা চুক্তিই নয়, বিশ্ব রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তাপও স্পষ্ট ছিল দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোদী ও পুতিন। বিশেষ করে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উত্থাপিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদী ফের তাঁর স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানান, যেকোনো আন্তর্জাতিক বিরোধের স্থায়ী সমাধান কেবল কূটনৈতিক আলোচনা ও শান্তির পথেই সম্ভব। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত ও রাশিয়ার ‘বিশেষ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ যে কতটা মজবুত, এই বৈঠক তা আরও একবার প্রমাণ করল।