মোদি সরকারের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও ভারতে আসছেন না তারেক রহমান! ব্রিকস সম্মেলন বয়কটের নেপথ্যে আসল কারণ কী?

আগামী সপ্তাহে ভারতে বসতে চলেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চ ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের মেগা আসর। তবে সেই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে দেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আমন্ত্রণের পদ্ধতি বা প্রোটোকল নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ থাকার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলার নীতি নিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দিতে তাঁর দিল্লি সফরে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলন এড়িয়ে যাওয়ার আসল কারণ কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বহুমুখী ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়ে দেশে ফিরে তারেক রহমান কী রাজনৈতিক বার্তা দেবেন, তা নিয়ে কিছুটা চিন্তায় রয়েছে ঢাকা প্রশাসন। বিশেষ করে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাঁর দলের অবস্থান বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্তদের দ্রুত প্রত্যর্পণ করা হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হতে পারে।
দ্বিপক্ষীয় সফর এবং অন্যান্য সমীকরণ
যদিও বহুপাক্ষিক ব্রিকস মঞ্চে তারেক রহমান অনুপস্থিত থাকছেন, তবুও দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় থাকছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই গঙ্গা জল চুক্তি নবায়ন করার সময়সীমা শেষ হতে চলেছে। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি। কূটনৈতিক মহলের মতে, সমস্ত দিক বিচার করে তাড়াহুড়ো না করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী, যা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।