মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাস! রাজকীয় উদযাপনের মেগা ব্লুপ্রিন্ট ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।

আগামী ৭ অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের গৌরবোজ্জ্বল ২৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের প্রধানের কুর্সিতে তাঁর এই দীর্ঘ ও বর্ণময় রাজনৈতিক কার্যকালকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সম্প্রতি নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের মন্ত্রী, বিশিষ্ট বিধায়ক এবং শীর্ষস্থানীয় আমলাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পরই রাজ্যজুড়ে এক সুপরিকল্পিত এবং বিস্তারিত কর্মসূচির রূপরেখা জনসমক্ষে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন যে এই বিশেষ উপলক্ষকে সামনে রেখে গোটা রাজ্যজুড়ে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য ও ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ জ্বালানো হবে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরলস দেশসেবার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও অন্যান্য রাজ্যের মতো সামিল হচ্ছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্যাস্তের ঠিক পরেই ‘আশীর্বাদও কি দিয়া’ অর্থাৎ আশীর্বাদের প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এই বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ সূচনা হবে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই নির্দিষ্ট দিনে বাংলার অন্তত এক কোটি পরিবার এই স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচিতে অংশ নেবে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাতীরবর্তী এলাকাগুলি ছাড়াও ঐতিহাসিক নবান্ন ভবন, রাইটার্স বিল্ডিং, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং কালীঘাট মন্দিরের মতো রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থান হাজার হাজার প্রদীপের আলোয় জাঁকজমকপূর্ণভাবে সাজিয়ে তোলা হবে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞে রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি স্কুলকেও সরাসরি শামিল করা হচ্ছে। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা এবং বিতর্ক সভার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, পিএম কিষাণ এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাভোগী পরিবারগুলিকে নিয়ে ‘নমো সেবা গাথা’ এবং ‘কাহানি বদলাও কি’-র মতো বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি রূপায়ণ করা হবে। মূলত গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কী ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা সর্বসমক্ষে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

আগামী ৭ অক্টোবর একটি জমকালো ‘সেবা যাত্রা’-র মাধ্যমে এই দীর্ঘ উদযাপনের সমাপ্তি ঘটবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদরে এই কর্মসূচি মহাসমারোহে পালিত হবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভার্চুয়াল মাধ্যমের সাহায্যে সমস্ত জেলার জনসাধারণকে সরাসরি সম্বোধন করবেন। এর পাশাপাশি কলকাতার বিখ্যাত নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে এক আকর্ষণীয় ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে, পর্যটন ও বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে প্রাকৃতিক উপাদান কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হবে ১০৮ মিটার দীর্ঘ এক বিশাল ‘রঙ্গোলি রাষ্ট্র’। আসন্ন মহালয়ার আগেই এই সমস্ত কর্মসূচির সিংহভাগ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরো ব্যবস্থাপনার সমন্বয় সাধনের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফত্রকে।

তবে সমস্ত প্রশাসনিক আয়োজনের মাঝেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকাকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে উপনির্বাচনের বিধিনিষেধের বিষয়টিও অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান যে রাজ্যের দু’টি বিধানসভা কেন্দ্র— নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বর্তমানে নির্বাচন আচরণবিধি লাগু রয়েছে। সেই কারণে ওই নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে নির্বাচন কমিশনের কড়া নিয়ম মেনে সরকারি স্তরে কোনো অনুষ্ঠান করা হবে না। তবে তিনি এও স্পষ্ট করে দেন যে ওই দুই অঞ্চলে রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত স্তরে সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে এই কর্মসূচি পালন করতেই পারেন, কিন্তু প্রশাসনিকভাবে কোনো অনুষ্ঠান হবে না।