বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির (Lionel Messi) কলকাতা সফরকে ঘিরে চরম উন্মাদনার পাশাপাশি বড় ধরনের বিতর্ক সামনে এসেছে। শনিবার ভোরে শহরে পা রাখেন আর্জেন্তিনীয় মহাতারকা। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মেসি তাঁর দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি পল-কে নিয়ে সরাসরি হোটেলে পৌঁছান। হাজার হাজার ভক্ত মাঝরাত পর্যন্ত ভিড় করলেও, প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি।
অতিরিক্ত টিকিটের দামে রাজ্যপালের উদ্বেগ
এই উৎসবের আবহেই টিকিটের অত্যধিক দাম এবং সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের বঞ্চনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য সরকারের কাছে একটি বিশদ রিপোর্ট চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। লোকাল ভবনের আধিকারিক সূত্রে খবর, বহু ফুটবলপ্রেমী রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ করেছেন যে টিকিটের দাম ‘নাগালের বাইরে’ হওয়ায় তাঁরা মেসিকে দেখতে পারেননি।
রাজ্যপাল এই সফরে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, সাধারণ মানুষের আবেগের সুযোগ নিয়ে কেন একজন বেসরকারি ব্যক্তিকে অর্থ উপার্জনের অনুমতি দেওয়া হল। রাজ্যপালের দপ্তরে ফোন ও মেলের মাধ্যমে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র যারা অতিরিক্ত দামের টিকিট কিনেছেন, সেই অল্প সংখ্যক মানুষই মেসিকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে রাজ্যপাল আয়োজক বেসরকারি সংস্থাটির বিষয়ে সম্পূর্ণ রিপোর্ট চেয়েছেন।
যুবভারতীতে চরম অসন্তোষ
অন্যদিকে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির উপস্থিতি ঘিরেও চরম অসন্তোষ দেখা যায়। জানা গিয়েছে, মেসি মাঠে ছিলেন মাত্র ২৩ মিনিট। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যতক্ষণ তিনি মাঠে ছিলেন, নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে গ্যালারি থেকে দর্শকরা এক ঝলকের জন্যও তাঁকে স্পষ্ট দেখতে পাননি।
এই অব্যবস্থাপনার জেরেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। হাজার হাজার টাকা খরচ করেও মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকরা বোতল ও অন্যান্য বস্তু ছুড়তে শুরু করেন। গ্যালারি থেকে হোর্ডিং ছেঁড়ার পাশাপাশি মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে লক্ষ্য করেও বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যেই মেসিকে নিয়ে সেলফি তোলার হিড়িক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। সব মিলিয়ে, মেসির কলকাতা সফর একদিকে যেমন উন্মাদনা তৈরি করেছে, অন্যদিকে তেমনই অব্যবস্থাপনা ও উচ্চ টিকিটের দাম নিয়ে বাংলার ইতিহাসে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।