লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতীতে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হলেন মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই আয়োজকদের দ্রুত গ্রেফতারির দাবি তুলেছিলেন। পুলিশ শতদ্রুকে গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করার পরই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য শুধু শতদ্রুর গ্রেফতারিতেই থামেননি। তিনি এই ঘটনায় রাজ্যের দুই মন্ত্রীর গ্রেফতারির দাবিও তুলেছেন এবং একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ‘এক্স’ (আগে টুইটার) হ্যান্ডেলে তোপ দেগে লেখেন, “ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি যুবভারতীতে ঢোকা মাত্র তাঁকে অন্তত ১০০ জন নেতা মন্ত্রী ও তাঁদের আত্মীয়-পরিজন-শাগরেদদের ভিড় ঘিরে ধরে। ফলে গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখার কোনও উপায় ছিল না।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে তিনি লেখেন, “ভোটের আগে লিওনেল মেসির সাথে ছবি তুলে ‘খেলা হবে’ করতে গেছিলেন! উল্টে প্রতারিত দর্শক খেলা দেখিয়ে দিয়েছে।”
এছাড়াও, তিনি যুবভারতীতে আগত সমস্ত দর্শকের টিকিটের দাম ১০০ শতাংশ ফেরতের দাবি তুলেছেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
-
রাজ্যের ডিজি রাজীব কুমার সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, দ্রুত টিকিটের টাকা ফেরানো হবে। টাকা না ফেরালে আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
-
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে পোস্ট করে মেসি-সহ সমস্ত দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
-
এই বিশৃঙ্খলার তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গ্রেফতারির পর শতদ্রু দত্তকে জেরা করে পুলিশের হাতে আর কী কী তথ্য উঠে আসে এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।