মেসি-দর্শনের ক্ষোভ, রণক্ষেত্রে যুবভারতী, তদন্ত কমিটি গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী; রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ তুঙ্গে

কষ্টের রোজগারের টাকায় স্বপ্নপূরণের আশা নিয়ে যুবভারতীতে এসেছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা, কিন্তু তথাকথিত ‘ভিআইপি কালচার’-এর কারণে মেসিকে (Lionel Messi) এক ঝলক দেখা থেকে বঞ্চিত হন হাজার হাজার টাকার টিকিট কাটা সাধারণ দর্শক। মেসি মাঠ ছাড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে যুবভারতী। মুহূর্তের মধ্যে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় স্টেডিয়াম, যেখানে তোরণ, গ্যালারির চেয়ার, এমনকি গোলপোস্টও ভাঙচুর করা হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই নজিরবিহীন ঘটনায় তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও রাস্তা থেকে ফিরে যেতে হয়েছে।

ক্ষমা ও তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর:

ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেসির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনায় তৃণমূল সরকারকেই সরাসরি দায়ী করে তোপ দেগেছেন।

বিজেপি-র কড়া আক্রমণ:

  • সজল ঘোষের তোপ: বিজেপি নেতা সজল ঘোষ তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেছেন, “সাধারণ মানুষ হাজার হাজার টাকার টিকিট কিনেছেন। ন্যূনতম টিকিটের দাম প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। একশো দিনের কর্মীদের সারা মাসের কামাই একটা টিকিটের দাম। সেখানে একদল চোর আর চোরেদের বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ডরা মেসিকে ঘিরে রেখে দিল। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

  • সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ: বঙ্গ বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ভাঙচুর যারা করেছে, তারাও তৃণমূলেরই লোক। তাঁর অভিযোগ, “তারা অরূপ বিশ্বাসের লোক। আমার কাছে এমনই খবর আছে। টিকিটের কালোবাজারিও হয়েছে। পুরাটাই একটা মেস। বলা ভালো মেসি অন মেস। পুরোটাই করলো তৃণমূলের অসভ্য বর্বর নেতা-নেত্রীরা।” তিনি পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেন।

  • অমিত মালব্যের কটাক্ষ: বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগের উপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। প্রত্যেক ফুটবলপ্রেমীকে অপমান করেছে।”

সিপিএম-এর প্রতিক্রিয়া:

সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম কটাক্ষ করে বলেছেন, “নবান্নে কিন্তু এখনো ভাঙচুর হয়নি। কালীঘাটে এখনো ভাঙচুর হয়নি। বাংলায় খেলা হোক, মেলা হোক, বইমেলা হোক, দুর্নীতি হবে না? বিশৃঙ্খলা হবে না? কালোবাজারি হবে না?”

এই নজিরবিহীন তাণ্ডবের পর কলকাতা তথা বাংলার গর্ব যুবভারতী স্টেডিয়ামের চূড়ান্ত অবস্থার দায় কার, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল বাকবিতণ্ডা চলছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy