লিওনেল মেসির (Lionel Messi) কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলা নিয়ে এবার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর অভিযোগ, এই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে ‘বড় কোনও মাথা’ জড়িত রয়েছে এবং এই ইভেন্ট থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ঘাপলা হয়েছে।
অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ ও ইডি তদন্তের দাবি:
শনিবার সন্ধ্যায় যুবভারতীতে ঘটে যাওয়া ভাঙচুর এবং অব্যবস্থাপনার ঘটনার পরই অর্জুন সিং দ্রুত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তাঁর অভিযোগের মূল বিষয়গুলি হলো:
-
আর্থিক দুর্নীতি: “আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি…প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছে, যাঁদেরকে দেখা গিয়েছে মাঠে, তাঁদের দেখতে ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খাওয়া হয়েছে।”
-
টিকিট মূল্য ও বিক্রি: “১০ টাকার জলের বোতল বিক্রি হয়েছে ১৫০-২০০ টাকায়। মেসিকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছে, তাতে আপত্তি রয়েছে।”
-
তদন্তের কারণ: অর্জুন সিং দ্রুত ইডি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেছেন, “কী চুক্তি হয়েছিল, কী চুক্তি লস হল, বলতে হবে।”
ডিজি-র প্রেস কনফারেন্স নিয়ে প্রশ্ন:
অর্জুন সিং রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “কেন ডিজি-কে মাঝখানে প্রেস কনফারেন্স ছেড়ে উঠে যেতে হল? ডিজি আবেগে বলে ফেলেছেন, সবাই বুঝতে পারছেন। উনি বলার পর দুমিনিটের মধ্যে প্রেস কনফারেন্স ছেড়ে উঠে যেতে হল।” (উল্লেখ্য, ডিজি রাজীব কুমার কেন প্রেস কনফারেন্স ছেড়ে উঠে গিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট নয়, তবে অর্জুন সিং এই ঘটনাকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে দাবি করেছেন)।
দর্শকদের ক্ষোভ ও টাকা ফেরত:
মেসিকে দেখার জন্য বহু দর্শক ৪ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু বিশৃঙ্খলার চোটে ‘ভগবান’-কে দেখতে না পেয়ে তাঁরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্টেডিয়াম রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এবং সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চলে।
এই পরিস্থিতিতে চরম ক্ষোভের মুখে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। যদিও অর্জুন সিংয়ের অভিযোগের নিশানায় এখন দুর্নীতির বিষয়টিই প্রধান।