মেট্রোতে ধূমপান থেকে দেওয়ালে প্রস্রাব—আর যেতে হবে না জেলে! মোদী সরকারের ‘জনবিশ্বাস’ বিলে বড় স্বস্তি

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড়সড় স্বস্তি দিতে এবং বিচার ব্যবস্থার চাপ কমাতে ২০২৬ সালের শুরুতেই ‘জনবিশ্বাস বিল’ নিয়ে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মেট্রো রেলে ধূমপান করা বা যত্রতত্র দেওয়ালে প্রস্রাব করার মতো ছোটখাটো ভুলের জন্য এখন আর মাসের পর মাস জেল খাটতে হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য হলো ‘ইজ অফ লিভিং’ এবং ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-কে আরও সুদৃঢ় করা।

জনবিশ্বাস বিল ২০২৬-এর মূল লক্ষ্য হলো ছোটখাটো বা লঘু অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিধান বাতিল করে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা করা। এই বিলের মাধ্যমে ১৯টি মন্ত্রকের অধীনে থাকা প্রায় ৪২টি আইনের ১৮৩টি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় দণ্ডবিধির এমন অনেক ধারা থেকে কারাদণ্ডের ভয় ঘুচতে চলেছে, যা এতদিন সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে মাথাব্যথার কারণ ছিল।

বিলে কী কী উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে? * পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য: এতদিন যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বা দেওয়ালে প্রস্রাব করার মতো জনস্বাস্থ্য বিরোধী কাজে জেল হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। এখন থেকে কেবল জরিমানার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

  • পরিবহন ব্যবস্থা: মেট্রো রেল বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ধূমপান বা ছোটখাটো শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতা কমানো হয়েছে।

  • ব্যবসা-বাণিজ্য: ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও অনিচ্ছাকৃত প্রশাসনিক ভুলচুক হলে সরাসরি জেলে পাঠানোর বদলে জরিমানা বা সতর্কবার্তার সংস্থান রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিল পাস হওয়ার ফলে দেশের নিম্ন আদালতগুলিতে জমে থাকা কয়েক লক্ষ মামলার বোঝা কমবে। পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থার শক্তি বড় অপরাধ দমনে আরও বেশি করে ব্যয় করা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, শাস্তির ভয় কমলে নাগরিক শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। যদিও সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, লঘু অপরাধের ক্ষেত্রে দণ্ড লঘু হলেও জরিমানার অঙ্ক এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে কেউ বারবার আইন ভাঙার সাহস না পায়।