মৃত্যুর মুখে P&T কলোনির বাসিন্দারা! ১১২টির মধ্যে ৭৫% ভবন বিপজ্জনক, ফের বারান্দা ধসে আতঙ্ক

মুম্বইয়ের আন্ধেরি এলাকার পোস্টাল ও টেলিগ্রাফ (P&T) কলোনিতে ফের একবার বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকালে আচমকাই এই কলোনির একটি ভবনের দুটি বারান্দার ছাদের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। সৌভাগ্যবশত, সেই সময় বারান্দায় বা নিচে কেউ উপস্থিত না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পোস্টাল ও টেলিগ্রাফ বিভাগের কর্মীদের জন্য তৈরি এই সরকারি কলোনিটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কলোনিতে মোট ১১২টি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই জরাজীর্ণ। প্রায় ৭০টি ভবনে এখনও কর্মীরা বসবাস করছেন এবং বাকিগুলি সুরক্ষার কারণে খালি করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি চলতি বছরে কলোনিতে ছাদ ধসের তৃতীয় বড় ঘটনা।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও নিম্নমানের কাজ নিয়ে ক্ষোভ:

কলোনির সচিব আনন্দ নিমাঙ্গরে জানান, যে ভবনটির বারান্দার ছাদ এদিন ধসে পড়েছে, সেটি গত মাসেই কাঠামোগত মেরামত করা হয়েছিল। নিমাঙ্গরের স্পষ্ট অভিযোগ, ঠিকাদার অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করছে এবং কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষই এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে না। তিনি বলেন, “প্রতিদিনই কোনো না কোনো কাঠামোর অংশ ধসে পড়ছে… এটি একটি সরকারি কলোনি, অথচ এর কাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।”

কলোনির এক বাসিন্দা অভিজিৎ অভিযোগ করেন, বিএমসি (BMC) সহ কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষই এই বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছে না। এত বিপজ্জনক অবস্থা হওয়া সত্ত্বেও ভবনগুলিকে উচ্ছেদের নোটিশও দেওয়া হয়নি। বাসিন্দারা মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে কলোনির কাঠামোগত নিরীক্ষা বা ‘স্ট্রাকচারাল অডিট’ হয়েছিল। চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবার।