মৃত্যুর মুখে বসে একটানা হনুমান চালিসা পাঠ! ফ্লাইদুবাইয়ের বীর পাইলট স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাল গোটা দেশ

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে মাঝআকাশে কো-পাইলটের অতর্কিত ও প্রাণঘাতী হামলার মুখোমুখি হওয়া অসমসাহসী ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সঙ্গে শুক্রবার ভিডিও কলে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের সেই রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা শোনাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্মিত। বিমানটির জরুরি অবতরণের পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ভিডিও কলে প্রধানমন্ত্রীকে সামনে দেখে নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে স্মিত জানান, শরীরে অসংখ্য আঘাত ও তীব্র রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও তাঁর মনে একটাই জেদ ছিল—”এখন যদি না উঠি, তবে সব শেষ!” দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি জানান, সেদিন নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে ফেলতেই বাকিরা ভেতরে ছুটে আসেন এবং ১৭১ জন যাত্রী ও বিমানকর্মীর জীবন রক্ষা পায়।

কথোপকথনের সময় স্মিত প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বিপদে পড়লে তিনি সবসময় ‘হনুমান চালিসা’ জপ করেন, এবং সেদিনও মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তিনি একটানা হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন। স্মিতের এই সাহসিকতা, উপস্থিতি বুদ্ধি এবং অসম্ভব মানসিক ধৈর্যের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, স্মিতের মা গীতা দেবীর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্মিতের মা তাঁকে যে মূল্যবোধ শিখিয়েছেন, তা গোটা দেশের কাছে অনুপ্রেরণা। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকার যেভাবে এই বিপদে স্মিতের পাশে দাঁড়িয়েছে, তার জন্য দুই দেশের সরকারকেও ধন্যবাদ জানান মোদী। স্মিতকে অভয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার যখনই যে কোনও প্রয়োজনে আমাকে দরকার হবে, জানবেন আমি মাত্র একটি ফোন কলের দূরত্বে রয়েছি।” ক্যাপ্টেন মচ্ছারের বীরত্বকে কুর্নিশ জানিয়ে মোদী বলেন, স্মিত নিজের জীবন বাজি রেখে যে বিশাল দায়িত্ব পালন করেছেন, তা গোটা বিশ্বের সামনে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছে।