মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা! দুর্গাপুরে গণধর্ষণ-কাণ্ডে নির্যাতিতার পাশে শুভেন্দু অধিকারী, ভুবনেশ্বর AIIMS-এ স্থানান্তরের দাবি

দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুললেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নির্যাতিতার বাবাকে পাশে নিয়েই সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু।

তাঁর মূল প্রশ্নটি ছিল, “ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি যখন ফোন করে সহানুভূতি জানিয়েছেন, তখন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এখনও একবারও নির্যাতিতার পরিবারকে ফোন করে কিংবা দেখা করে খোঁজ নিলেন না?”

শুভেন্দুর কণ্ঠে রাজ্যের ব্যর্থতার সুর
সাংবাদিকদের সামনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা ওড়িশার একজন মেয়েকে এখানে সুরক্ষিত রাখতে পারলাম না। আমরাও লজ্জিত। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।” তিনি জানান, নির্যাতিতার শারীরিক পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, সে খাওয়া-দাওয়াও করছে। কিন্তু আরও ভালো চিকিৎসার জন্য পরিবার তাঁকে ভুবনেশ্বর AIIMS-এ নিয়ে যেতে চায়।

শুভেন্দু বলেন, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি ছাত্রীর ভবিষ্যতের ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি নিজে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দ্রুত নির্যাতিতাকে ভুবনেশ্বর AIIMS-এ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করবেন। তিনি আরও জানান, তিনি নিজে নির্যাতিতার বাড়ি জলেশ্বরে যাবেন।

কলেজ ছেড়ে যেতে চায় পরিবার, মূল অভিযুক্ত অধরা
নির্যাতিতার পরিবারের তরফে শুভেন্দুকে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা মেয়েকে আর এই কলেজে পড়াতে চাইছেন না। প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করে মেয়েকে এখানে ভর্তি করিয়েছিলেন, কিন্তু এই ঘটনার পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত পরিবার। শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন।

বিরোধী দলনেতা প্রশ্ন তোলেন, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল অভিযুক্ত কেন এখনও অধরা? রাজ্য পুলিশের এই ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

ক্ষোভ প্রকাশ: অনুমতি পেলেন না শুভেন্দু ও জাতীয় মহিলা কমিশন
এদিন নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করতে জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরাও আসছিলেন। কিন্তু তাঁরা নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, শুভেন্দু অধিকারী নিজেও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পাননি। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, প্রশাসনের এই আচরণ স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।