মুখে মমতা-স্তুতি, হাতে অন্য নথি! ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে দেবের ডিগবাজিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব যখন ‘রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস’ নেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন, তখন রাজ্য জুড়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল। কিন্তু সেই জল্পনা কাটিয়ে তিনি মমতার মঞ্চে ফেরেন, টিকিট পান এবং জয়ী হন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলছে, দেবের সেই ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাস’ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার লক্ষণ নেই। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেবের অবস্থান নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, দেবের মুখে কি তবে রাজনীতির দু’রকম কথা?

গত ৭২ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহে দেবের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৮ জুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তৃণমূল সাংসদদের একটি বৈঠক হয়, যেখানে দেবের উপস্থিতি নিয়ে জোরালো গুঞ্জন ওঠে। পরদিন ৯ জুন, দেব তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুটিং সেটের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশন দেন—‘যেখানে আমার আসল জায়গা, সেখানেই ফিরলাম’। একই দিনে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকেও দেখা যায়।

যখন সংবাদমাধ্যম তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে, দেব তখন সৌজন্যের দোহাই দিয়ে বলেন, “সারাজীবন সৌজন্যের রাজনীতি করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ভালোবাসা সারাজীবন থাকবে। আমি নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি।” কিন্তু দেবের এই ‘ব্যক্তিগত ভালোবাসা’র বার্তার ঠিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ১২ জুন সকালে ফাঁস হয় এক বিস্ফোরক নথি।

প্রকাশ্যে আসা ওই চিঠিতে দেখা যায়, তৃণমূলের ১৯ জন সাংসদ একটি গোপন নথিতে সই করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে দীপক অধিকারীর নামও। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে জমা দেওয়া এই চিঠি এবং দেবের সাম্প্রতিক দৌড়ঝাঁপ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। যেখানে একদিকে তিনি মমতার পাশে থাকার দাবি করছেন, অন্যদিকে তাঁর সই করা নথি অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের স্বপ্ন নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করছেন ঠিকই, কিন্তু তৃণমূলের সাংসদদের ওই সই করা তালিকা তাঁর দ্বিমুখী অবস্থানের দিকেই আঙুল তুলছে। অভিনেতা দেবের ‘রাজনৈতিক সুবিধা’ কি তবে মমতার তৃণমূলের সাথে নেই? নাকি এটি কোনো বড় রাজনৈতিক রণকৌশলের অংশ? এই রহস্যের উত্তর খুঁজছে এখন গোটা রাজ্য। দেবের এই অবস্থান কি তবে নতুন কোনো দলবদলের পূর্বাভাস? নাকি রাজনীতির মঞ্চে আরও একবার দেবের পক্ষ পরিবর্তনের সাক্ষী থাকবে বাংলা? উত্তর সময় দেবে।