মুখে দেওয়ার পরই ওই বিশেষ ‘শব্দ’! কীভাবে এল জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড ‘ফুচকা’ নাম? জানুন আসল সত্য!

পাড়ার মোড়ের একটা ছোট্ট ঠেলাগাড়ি। আর তাকে ঘিরে ভিড় জমিয়েছেন আট থেকে আশি বয়সি সমস্ত খাদ্যরসিক। শালপাতার বাটিতে তেঁতুল জল আর মশলা মাখানো আলু ভরা মচমচে গোল গোল জিনিসটা মুখে পুরলেই যেন পরম তৃপ্তি! বাঙালির স্ট্রিট ফুডের কথা উঠলে সবার আগে যার নাম মাথায় আসে, তা হল এই ফুচকা। কিন্তু কখনও কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, সবার প্রিয় এই খাবারটির নাম কেন ‘ফুচকা’ হল? এর নামের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক চমৎকার ও প্রাচীন ইতিহাস।

খাবারটির শিকড় খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে মহাভারতের যুগে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পাণ্ডবরা যখন বনবাসে ছিলেন, সেই সময় মাতা কুন্তী নববধু দ্রৌপদীর রন্ধনশিল্পের পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। তিনি দ্রৌপদীকে সামান্য কিছু বেঁচে যাওয়া আটা এবং মশলা মাখানো সবজি দিয়ে এমন একটি খাবার বানাতে বলেন, যা খেয়ে পাঁচ ভাইয়ের পেট ভরে যেতে পারে। কথিত আছে, সেই সময় দ্রৌপদী নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই অভিনব খাবারটি তৈরি করেছিলেন। সেই খাবার খেয়ে পাণ্ডবরা দারুণ তৃপ্ত হয়েছিলেন। জনশ্রুতি রয়েছে, এতে খুশি হয়ে মাতা কুন্তী এই খাবারটিকে অমরত্বের বর দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, ফুচকার আসল জন্মস্থান হল প্রাচীন মগধ সাম্রাজ্য, যা বর্তমানে বিহার নামে পরিচিত। সেই প্রাচীনকালে এই সুস্বাদু খাবারের নাম ছিল ‘ফুলকি’। আটা বা সুজি দিয়ে তৈরি ছোট ছোট মুচমুচে লুচির মতো এই ফুলকির ভিতরে আলু ও মশলা ভরে খাওয়া হত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ফুলকি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজের রূপ বদলে নেয়। তা সত্ত্বেও টক-ঝাল জল আর মশলাদার আলুর এই অপূর্ব যুগলবন্দি যুগ যুগ ধরে মানুষের মন জয় করে আসছে।

খাদ্যরসিক ও ভাষাবিদদের একাংশের মতে, এই নামকরণের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট শব্দের গভীর যোগ রয়েছে। মুচমুচে এই খাবারটি মুখে দিলেই ‘ফুচ’ করে এক ধরনের শব্দ হয়, আর তার পরেই টক-ঝাল জলে মুখ ভরে যায়। মনে করা হয়, মুখে ফেটে যাওয়ার এই ‘ফুচ’ ধ্বনি থেকেই ‘ফুচকা’ নামের উৎপত্তি হয়েছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এটি গোলগাপ্পা, পানিপুরি বা গুপচুপ নামে পরিচিত হলেও, বাংলার ফুচকার স্বাদ ও নামকরণের নিজস্ব আকর্ষণ আজও অটুট।