“কর্নাটকে কোনো অনিয়ম হয়নি!” কংগ্রেস মন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যে অস্বস্তিতে দল, আসরে ধর্মেন্দ্র প্রধান

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক পারদ চড়ে রয়েছে, ঠিক তখনই খোদ কংগ্রেস শাসিত কর্নাটকের এক মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় বিতর্ক। যেখানে একদিকে কংগ্রেস নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর প্রক্রিয়াকে ‘ভোট চুরির ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিশাল সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক বিপরীত সুর গেয়ে কর্নাটকের পূর্তমন্ত্রী সতীশ জারকিহোলি দাবি করেছেন যে, কর্নাটকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি ছিল না!
৪টি মূল বিষয়
সমাবেশের ঠিক আগে বিস্ফোরক মন্তব্য: ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের মেগা সমাবেশের প্রাক্কালে মন্ত্রী সতীশ জারকিহোলির এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
কর্নাটকে এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রশংসা: মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে কংগ্রেসের প্রশিক্ষণের পরেই কর্নাটকে এই কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যদিও অন্যান্য রাজ্যে তারা এর বিরোধিতা করেছিল।
দলের অন্দরেই ক্ষোভ: প্রিয়ঙ্ক খাড়গেসহ কংগ্রেসের একাধিক নেতা যখন এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র’ বলে দাগিয়েছেন, ঠিক তখনই মন্ত্রীর এমন উলটো সুর অস্বস্তিতে ফেলেছে হাত শিবিরকে।
বিজেপির কড়া আক্রমণ: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই দ্বিমুখী নীতি ও নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে সুবিধে মতো অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
কর্নাটকে সব ঠিক আছে, দাবি সতীশ জারকিহোলির
কর্নাটকে এসআইআর-এর অধীনে প্রায় ১ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন পূর্তমন্ত্রী সতীশ জারকিহোলি বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, কর্নাটকের ক্ষেত্রে এসআইআর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা কর্নাটকে এসআইআর-এর বিরোধিতা করিনি। তবে পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, বিহার ও অন্যান্য রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের বহু প্রশ্ন ও আপত্তি ছিল। আমাদের দলের দেওয়া সঠিক প্রশিক্ষণের ফলেই কর্নাটকে এই কাজ যথাযথভাবে হয়েছে।”
দলের অন্দরে সুর চড়িয়েছেন প্রিয়ঙ্ক খাড়গে
এদিকে, সতীশের এই মন্তব্যের পরেই কংগ্রেসের অন্দরেই বিরোধের সুর চড়েছে। মন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খাড়গে সহ দলের অন্য নেতারা এই এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে একে একটি সুবিস্তৃত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বেছে বেছে ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ஜனநாயக প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
বিজেপির তীব্র কটাক্ষ
কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ দ্বিমুখী নীতি হাতেনাতে ধরে ফেলে আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যে প্রক্রিয়া বা নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী জোট দেশজুড়ে আন্দোলন ও প্রতীকী সংসদের ডাক দিচ্ছে, তাদেরই দলের মন্ত্রী যখন নিজ রাজ্যে সেই প্রক্রিয়াকে নির্ভুল ও সফল বলে সার্টিফিকেট দেন, তখন তাঁদের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ জাগাটাই স্বাভাবিক। ১ নভেম্বরের মেগা সমাবেশের আগে এই অন্তর্দ্বন্দ্ব কংগ্রেসের রাজনৈতিক কোণঠাসা অবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।