বিগ বসের ঘরে জীতু-সৃজলার রসায়ন নিয়ে চরম বিতর্ক! লাক্সারি বাজেট টাস্কে স্টার চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তাল অন্দরমহল!

বিগ বস বাংলা মানেই তো পদে পদে চমক, নাটক আর অন্তহীন বিতর্ক। বিশেষ করে লাক্সারি বাজেট টাস্ক এলেই যেন ঘরের অন্দরের সমস্ত সমীকরণ বদলে যায়! কে কখন বন্ধু থেকে চরম শত্রু বনে যায়, তা অনুমান করা রীতিমতো অসম্ভব। আর এবার সেই ট্রেন্ড বজায় রেখেই বিগ বসের অন্দরমহল রীতিমতো উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঘরের অন্দরে এখন সবথেকে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জনপ্রিয় তারকা জীতু কামাল ও সৃজলার সমীকরণ। নতুন লাক্সারি বাজেট টাস্কে একদিকে যেমন স্টার চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, তেমনই অন্যদিকে খোদ সঞ্চালক বা ‘চিফ কমান্ডার’ জীতুর বিরুদ্ধে উঠেছে পক্ষপাতিত্বের মারাত্মক অভিযোগ!
এবারের হাই-ভোল্টেজ টাস্কে সঞ্চালক বা চিফ কমান্ডারের গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন জীতু কামাল। তাঁরই কড়া নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে প্রতিযোগীরা নিরঞ্জন ও সৃজলার নেতৃত্বে দুটি আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নেমেছেন। কিন্তু খেলা যত গড়াচ্ছে, ততই খোদ সঞ্চালকের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন প্রতিযোগীরা। নিরঞ্জনের দলের সরাসরি অভিযোগ, সৃজলার টিমকে যেকোনো মূল্যে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য আড়ালে নানা ছক কষছেন জীতু। শুধু তাই নয়, ঘরের অন্যান্য প্রতিযোগীদের একাংশ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার নেটিজেনদের বড় একটা অংশের দাবি—সৃজলার প্রতি বিশেষ দুর্বলতা ও প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে রয়েছেন জীতু! আর সেই ব্যক্তিগত সমীকরণের প্রভাবই নাকি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে খেলার নিয়মরক্ষায়।
ঘটনার সূত্রপাত একটি হাই-ভোল্টেজ কবাডি খেলার সময়। নিয়ম অনুযায়ী, খেলার মাঝে সৃজলা ভুল করে দু’বার নিজের দম ছেড়ে দিয়েছিলেন। স্পষ্ট নিয়ম ছিল, চিফ কমান্ডার জীতু বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সবার সামনে উচ্চস্বরে ঘোষণা করবেন। কিন্তু অভিযোগ, তিনি তা না করে চরম গোপনীয়তা বজায় রেখে আড়ালে সোনামণিকে ডেকে বিষয়টি জানান। এরপর সেই তথ্য সোনামণি নিজের দলের ক্যাপ্টেন নিরঞ্জনের কাছে ফাঁস করে দেন। আর ঠিক এখান থেকেই জীতুর নিরপেক্ষতা নিয়ে নিরঞ্জনের দলের মনে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।
এই সুপ্ত ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে আরও একটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা। নিরঞ্জনের দলের কাছে যেখানে সুরক্ষিতভাবে ছ’টি স্টার পয়েন্ট ছিল, অন্যদিকে সৃজলার দলের সংগ্রহে ছিল মাত্র চারটি স্টার। কিন্তু রাতের ডিনারের ঠিক আগের মুহূর্তে আচমকাই নিরঞ্জনের দলের একটি স্টার পয়েন্ট রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায়! স্বাভাবিকভাবেই সবার প্রথম সন্দেহ গিয়ে পড়ে খোদ সঞ্চালক জীতুর ওপরেই। এই বিষয়ে যখন তীব্র প্রতিবাদ ও আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অভিনেত্রী তনুশ্রীর সঙ্গে জীতুর তুমুল বচসা ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে জীতু উল্টে পুরনো একটি অপ্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, এর আগের একটি খেলায় নাকি ভরত কলের মোহরের বাক্স থেকে কয়েন চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেই পুরনো প্রসঙ্গ টেনে জীতু তনুশ্রীকে আক্রমণ করে বলেন যে, তিনি তাঁকে নতুন করে চোর বলতে পারেন না।
জীতুর এমন অপমানজনক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করতে যান তনুশ্রী। কিন্তু তাঁকে বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়ে রীতিমতো ধমক দিয়ে থামিয়ে দিতে চান জীতু। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি এখন গেমের চিফ কমান্ডারের দায়িত্বে আছেন, তাই তনুশ্রীর কোনো অধিকার নেই এই ভাষায় কথা বলার। কিন্তু তনুশ্রীও দমে যাওয়ার পাত্রী নন। দুজনের মধ্যে বাকযুদ্ধ চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি এতদূর গড়ায় যে, রাগের বশে নিরঞ্জনের দলের আরও দু’টি স্টার পয়েন্ট কেড়ে নেন জীতু। শুধু তাই নয়, চরম শাস্তিস্বরূপ তনুশ্রীকে ওই গেম থেকে সরাসরি ডিসকোয়ালিফাই বা বহিষ্কার করে দেন তিনি!
এই নজিরবিহীন ঘটনার পর বিগ বসের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। সৃজলার প্রতি জীতুর এই কথিত পক্ষপাতিত্ব এবং তাঁর একরোখা আচরণ নিয়ে এখন দর্শকমহলেও তীব্র সমালোচনা ও আলোচনার ঝড় উঠেছে। আগামী পর্বে এই হাই-ভোল্টেজ লাক্সারি বাজেট টাস্ক কোন দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত কার কপালে জয়ের তিলক জোটে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।