মাসে ১৫০০০ টাকা পেনশন পাবেন সাংবাদিকরা, ভোটের আগে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সাংবাদিকদের জন্য এক যুগান্তকারী ঘোষণা করেছেন। বিহারের স্বীকৃত সাংবাদিকদের জন্য মাসিক পেনশনের পরিমাণ ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের মন জয় করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে।

মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “‘বিহার সাংবাদিক সম্মান পেনশন যোজনা’র অধীনে এখন সমস্ত যোগ্য সাংবাদিকদের প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকার পরিবর্তে ১৫ হাজার টাকা পেনশন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” একই সাথে, তিনি আরও ঘোষণা করেছেন যে, যদি কোনও পেনশনভোগী সাংবাদিকের মৃত্যু হয়, তবে তাঁদের নিকটাত্মীয়কে আজীবন প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা পেনশন দেওয়া হবে।

নীতীশ কুমার গণতন্ত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “তাঁরা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সামাজিক উন্নয়নে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমরা শুরু থেকেই সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনা করছি, যাতে তাঁরা নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা করতে পারেন এবং অবসরের পরে সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।”

নির্বাচনের আগে নীতীশের একাধিক জনমুখী ঘোষণা:

সাংবাদিকদের জন্য এই ঘোষণার পাশাপাশি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নীতীশ কুমার আরও বেশ কিছু জনমুখী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে:

সামাজিক নিরাপত্তা পেনশন বৃদ্ধি: বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং বিধবা মহিলাদের মাসিক পেনশন ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০০ টাকা করা হয়েছে।

১২৫ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ: সম্প্রতি, নীতীশ কুমার ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এই সিদ্ধান্ত ১ অগাস্ট, ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে এবং গ্রাহকরা জুলাই মাসের বিল থেকেই এর সুবিধা পেতে শুরু করবেন।

এক কোটি সরকারি চাকরি ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্য: বিহার সরকার আগামী পাঁচ বছরে (২০২৫ থেকে ২০৩০) এক কোটি সরকারি চাকরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে বলে ঘোষণা করেছে। এটি ২০২০-২৫ সালের তুলনায় দ্বিগুণ লক্ষ্যমাত্রা। মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ যুবককে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং রাজ্যের প্রায় ৩৯ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি ৫০ লক্ষ চাকরি ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জন করার বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেন।

বেসরকারি ও শিল্প ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান: নীতীশ কুমার বলেন যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কেবল সরকারি ক্ষেত্রেই নয়, বেসরকারি ও শিল্প ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। এর জন্য একটি উচ্চ-স্তরের কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যারা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন তদারকি করবে।

দক্ষতা স্কিল বিশ্ববিদ্যালয়: রাজ্যে শীঘ্রই একটি দক্ষতা স্কিল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হবে, যার নাম হবে জননায়ক কর্পুরী ঠাকুর দক্ষতা বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সমস্ত ঘোষণাগুলি বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দলের পক্ষে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য পেনশনের এই বিশাল বৃদ্ধি পেশাদার মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।