বিনা ওষুধেই লিভার থেকে হাওয়া হবে চর্বি? জানুন ফ্যাটি লিভার রিভার্স করার ৩টি সিক্রেট ম্যাজিক নিয়ম!

আজকাল অতিব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাসে ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণ—অনেকেই এখন এই রোগের শিকার। সাধারণত লিভারের কোষগুলিতে অতিরিক্ত মেদ জমা হলেই ফ্যাটি লিভার দেখা দেয়। এর মধ্যে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)-এর প্রাদুর্ভাব ভারতেই সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস এর জন্য প্রধানত দায়ী। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, একবার ফ্যাটি লিভার হলে কি তা কোনো ওষুধ না খেয়েই নিরাময় বা রিভার্স করা সম্ভব? এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খোলসা করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
সংবাদের ৪টি প্রধান তথ্য:
প্রাথমিক পর্যায়ে মুক্তি: গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইল বদলে ওষুধ ছাড়াই রোগ সারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: ক্র্যাশ ডায়েট এড়িয়ে ধীরে ধীরে ওজন কমালে লিভারের মেদ দ্রুত ঝরে।
শরীরচর্চা আবশ্যক: হাঁটা, সাইক্লিং বা সাঁতারের মতো অ্যারোবিক এক্সারসাইজ ফ্যাটি লিভার কমাতে দারুণ কার্যকর।
কখন দরকার ওষুধ: ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল বা লিভার ফাইব্রোসিস থাকলে চিকিৎসকের অধীনে ওষুধ খাওয়া বাধ্যতামূলক।
কী বলছেন লিভার বিশেষজ্ঞ?
যথার্থ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ নবীন কুমার জানান, কিছু ক্ষেত্রে রোগীরা একটি টাকাও ওষুধের পেছনে খরচ না করে কেবল লাইফস্টাইল বদলে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করে রোগী ফ্যাটি লিভারের কোন পর্যায়ে (Grading) রয়েছেন তার ওপর।
কখন অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
সব ফ্যাটি লিভার কিন্তু কেবল জীবনযাত্রার বদলেই কমে না। যদি রোগীর সাথে ডায়াবেটিস, অস্বাভাবিক স্থূলতা, অতিরিক্ত উচ্চ কোলেস্টেরল, লিভার এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধি বা লিভার ফাইব্রোসিসের লক্ষণ দেখা যায়, তবে দেরি না করে হেপাটোলজিস্টের কাছে যাওয়া জরুরি।
তাই ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিদিনের রুটিনে সাইক্লিং, জগিং বা হাঁটার মতো শারীরিক কসরত যোগ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সঠিক ডায়েট চার্ট সাজিয়ে নিন।