“ইসলাম বিদ্বেষ থেকেই ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ!” রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আসাদুদ্দিন ওয়াইসি

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টি অস্বীকৃত মাদ্রাসা বন্ধের রাজ্য প্রশাসনিক নির্দেশের পরই তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রাজ্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ ‘ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ’ থেকেই রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যা ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
হায়দরাবাদের সাংসদ ওয়াইসি দাবি করেন, যে সমস্ত মাদ্রাসায় মুসলিম শিক্ষার্থীরা তাঁদের ধর্ম অনুযায়ী পবিত্র কোরআনের শিক্ষা লাভ করে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেগুলিকেই নিশানা করা হচ্ছে।
ওয়াইসির বক্তব্যের ৩টি প্রধান দিক:
সংবিধান লঙ্ঘন: ওয়াইসির মতে, পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার যে অধিকার সংবিধানের ৩০ নম্বর ধারায় সংখ্যালঘুদের দেওয়া হয়েছে, রাজ্য সরকার তা খর্ব করছে।
ইউসিসি-র বিরোধিতা: কেন্দ্র সরকারের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকরের প্রচেষ্টাকে ১৮ কোটি মুসলিমকে টার্গেট করার পরিকল্পনা বলে তোপ দাগেন তিনি।
আইন কমিশনের কথা স্মরণ: মোদী সরকার গঠিত আইন কমিশনই তাদের রিপোর্টে জানিয়েছিল যে ভারতে এই মুহূর্তে ইউসিসি প্রয়োজনীয় বা কাম্য নয়।
সংবিধানের ৩০ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের চরম অভিযোগ
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এআইএমআইএম প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করে দিচ্ছে কারণ সেখানে মুসলিম শিশুরা তাদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে। মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ থেকেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যা সংবিধানের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ধর্মীয় বা ভাষাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার যে অধিকার সংখ্যালঘুদের রয়েছে, তা ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
| বিষয় | আসাদুদ্দিন ওয়াইসির অভিযোগ |
| মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ | ২৫২টি অস্বীকৃত মাদ্রাসা বন্ধের পেছনে ধর্মীয় বিদ্বেষ কাজ করছে। |
| সংবিধানের ধারা | সংবিধানের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদ (সংখ্যালঘুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকার) লঙ্ঘিত। |
| ইউসিসি (UCC) আইন | সংবিধানের ১৪, ২৫, ২৬ ও ২৯ নম্বর ধারাকে অমান্য করে মুসলিমদের নিশানা করার অভিযোগ। |
ইউসিসি নিয়ে কেন্দ্র ও বিজেপি-আরএসএসকে আক্রমণ
মাদ্রাসা বিতর্কের পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) আনার উদ্যোগ নিয়েও সরব হন ওয়াইসি। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সমতা আনার জন্য ইউসিসি আনছে না; বরং দেশের প্রায় ১৮ কোটি মুসলিম সম্প্রদায়কে নির্দিষ্টভাবে কোণঠাসা করতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে অ-হিন্দুদের ওপর জোর করে হিন্দু আইন চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিভিন্ন রাজ্যে ‘ডিস্টার্বড এরিয়াস অ্যাক্ট’ (Disturbed Areas Act) এবং ‘লাভ জিহাদ’-এর মতো আইন বজায় রেখে কীভাবে সরকার সমতার কথা বলতে পারে?