মানুষের হাত, মাছের মুখ আর সাপের শরীর! ইউরোপের গভীর গুহায় বাস করা এই রহস্যময় প্রাণীর জীবনকাল জানেন?

অন্ধকার গুহায় বসবাসকারী এমন এক রহস্যময় প্রাণী রয়েছে, যাকে দেখলে প্রথমে চমকে উঠতে হয়। এদের দেখতে অনেকটা মানুষের হাতের মতো মনে হলেও, মুখের গড়ন মাছের মতো। আবার সর্পিল আকৃতির জন্য এদের অনেক সময় সাপ বলেও ভুল হয়। কিন্তু আদপে এটি মাছ বা সাপ বা মানুষ—কোনওটিই নয়। এই বিশেষ প্রজাতির নাম হিউম্যান ফিশ (Human Fish) বা ওলম (Olm)।
ওলম-এর অদ্ভুত গড়ন ও জীবনশৈলী
ওলম হলো ইউরোপের চুনাপাথরের গুহার গভীরে বসবাসকারী এক মেরুদণ্ডী প্রজাতি। এরা মূলত উভচর হলেও, জলের নিচেই খাবার খায়, ঘুমোয় এবং শ্বাস নেয়।
শারীরিক বৈশিষ্ট্য: এদের মাথাটা লম্বাটে ও দেহের চেয়ে চওড়া হয়। মুখের ভেতরে থাকে ছোট ছোট দাঁত। এদের দেহের গঠন অনেকটা সাপের মতো হলেও, ওজন মাত্র ১৫ থেকে ২০ গ্রামের মধ্যে। লম্বায় এরা সাধারণত ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার হয়।
অন্ধ ও ফ্যাকাসে ত্বক: ঘন অন্ধকারে থাকার কারণে এদের চোখ প্রায় বিকশিতই হয়নি। বয়স্ক ওলমদের চোখ চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকায় তাদের অন্ধ বলে মনে হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গুহায় অভিযোজিত হওয়ার ফলে এদের শরীরে রঞ্জক পদার্থের পরিমাণ কমে গেছে। তাই এদের চামড়ার রঙ মানুষের মতো ফ্যাকাসে গোলাপি হয়। এই কারণেই এদের ‘মানব মাছ’ বলা হয়। এদের ত্বক আলোক সংবেদনশীল হওয়ায় সূর্যের আলো এরা সহ্য করতে পারে না।
দীর্ঘ জীবন ও অবিশ্বাস্য ক্ষমতা
ওলমদের জীবনকাল বেশ দীর্ঘ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এরা ১০০ বছরেরও বেশি সময় বাঁচতে পারে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো এদের কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষমতা:
১. খাদ্য গ্রহণ: এরা প্রকৃতির তৈরি এমন এক জীবন্ত রহস্য, যা ১০ বছর অবধি না খেয়ে থাকতে পারে! এদের খাদ্য হল ছোট চিংড়ি, শামুক এবং পোকামাকড়।
২. প্রজনন: এদের জন্মহারও বেশ কম—মোটামুটি প্রতি সাড়ে ১২ বছরে একবার নতুন ওলমের জন্ম হয়।
৩. পুনর্জন্ম ক্ষমতা: এদের একটি ব্যতিক্রমী পুনর্জন্ম ক্ষমতাও রয়েছে। ওলমরা নিজেদের কোনও বিচ্ছিন্ন অঙ্গ পুনরায় বৃদ্ধি করতে পারে।
এরা মূলত লালচে ঝলমলে ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়, যদিও এদের কার্যকরী ফুসফুসও থাকে। গভীর গুহার এই রহস্যময় জীবন্ত জীবাশ্ম ওলম আজও বিজ্ঞানীদের কাছে এক অপার কৌতূহলের বিষয়।