‘মানব রক্তে রাজনৈতিক হোলি’! এই মন্তব্যের জেরে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে FIR-এর দাবি তুললেন কল্যাণ

রাজ্যপাল বনাম শাসকদলের সংঘাত যেন কিছুতেই থামছে না! এবার তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি রাজ্যের রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ জানিয়ে কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত তথ্য জমা দিলেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠিতে মূল দাবি, গত ১৫ নভেম্বর রাজভবন থেকে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে রাজ্যপাল এমন মন্তব্য করেছেন যা ‘বিদ্রোহ উসকে দিতে পারে’ এবং ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবকে প্রশ্রয় দিতে পারে’। সাংসদের আরও অভিযোগ, রাজ্যপালের এই মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও রাজ্যের ভাবমূর্তিকে আঘাত করেছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতার পরিপন্থী।
রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কী কী গুরুতর অভিযোগ?
সাংসদ কল্যাণের অভিযোগপত্রে রাজ্যপালের আরও দুটি মন্তব্যের উল্লেখ রয়েছে, যা মারাত্মক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে:
‘মানব রক্তে রাজনৈতিক হোলি’: অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ১৭ নভেম্বর এক টিভি সাক্ষাৎকারে রাজ্যপাল এই বাক্যবন্ধটি ব্যবহার করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারেন এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে হোলি/দোল উৎসব এবং হিন্দু ধর্মাচরণের অবমাননা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
‘নির্বাচন বুলেটে নয়, ব্যালটে হওয়া উচিত’: অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, রাজ্যপালের এই মন্তব্য রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করে। এছাড়া তিনি নাকি বলেছেন, “নির্বাচনের আগে শুধু হিংসা নয়, দুর্নীতিও সরাতে হবে।”
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মন্তব্য:
আগের এক মন্তব্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ৮ অক্টোবর রাজ্যপালের এক বিবৃতিতে তিনি রাজ্য পুলিশের একটি অংশকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত, রাজনীতিকৃত ও অপরাধপ্রবণ’ বলে মন্তব্য করেন। কল্যাণের দাবি, এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপবাদ এবং এর পেছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি আছে। এমনকি গত বছর ২ জুলাই করা এক মন্তব্যে “বাংলায় প্রায় প্রতিদিন হত্যা” ইত্যাদি প্রচার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগও তোলা হয়েছে।
কোন কোন ধারায় অভিযোগ?
চুঁচুড়ার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১৭৩(১) অনুযায়ী তথ্য গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৬১, ১৫২, ১৯২, ১৯৬ ও ৩৫৩-এর আওতায় অপরাধের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষ রাজ্যপালের সঙ্গে “রাজনৈতিক নেতাদের ছদ্মবেশে থাকা অপরাধীদের” সম্ভাব্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখারও অনুরোধ জানিয়েছে। প্রমাণ হিসেবে ১৫ ও ১৭ নভেম্বর ২০২৫ এবং ৮ অক্টোবর ২০২৫-এ করা মন্তব্যের ইউটিউব লিংক সংযুক্ত করে সেই ভিডিওগুলিকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত করা হয়েছে।