মাত্র ৪ হাজার টাকার পুঁজি থেকে লক্ষাধিক আয়! মাশরুম চাষে নজির গড়লেন চন্দ্রকোনার সন্তু ঘোষ

একটা সময় ছিল, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার প্রত্যন্ত বালা গ্রামের বাসিন্দা সন্তু ঘোষ জানতেন না তাঁর ভবিষ্যৎ কী। পকেটে ছিল মাত্র তিন-চার হাজার টাকা। হাতে ছিল না বড় ব্যবসার অভিজ্ঞতা, শুধু ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তীব্র জেদ। সেই সামান্য পুঁজি নিয়েই তিনি নেমেছিলেন মাশরুম চাষে।

বীজ কিনে তৈরি করেছিলেন মাত্র ছ’শো গ্রাম মাশরুম। তখন তাঁর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল: মাশরুম ফুটবে তো? আর ফুটলেও, কেউ কিনবে তো? মনে ভয়, মনে আশা—এই দুটো নিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা।

সংগ্রাম থেকে সাফল্য:

দিন যত গেছে, অভিজ্ঞতা বেড়েছে। চেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্য—এই তিনে ধীরে ধীরে বদলে গেছে সন্তুর জীবন। ছ’শো গ্রাম দিয়ে শুরু করা সেই সন্তু ঘোষ, আজ দাঁড়িয়ে আছেন সাত হাজার সিলিন্ডারের বিশাল ফার্ম নিয়ে। তাঁর ফার্মে আজ তৈরি হয় ছ’টি প্রজাতির মাশরুম, যা প্রতিটি ঋতুর জন্য বিশেষ ভাবে চাষ করা হয়।

যে মানুষ এক সময় ভাবতেন ‘বিক্রি হবে কি না’, আজ সেই মানুষ চাহিদা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর মাশরুমের চাহিদা এতটাই বেশি যে, তিনি জোগান দিতে পারছেন না বলতেই হয়।

সন্তু ঘোষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “কখনও ভাবিনি এতটা এগোতে পারব। তখন তিন-চার হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেছিলাম। আর আজ আমার ফার্মে ছ’ধরনের মাশরুম হয়। আর চাহিদা এতই বেশি যে মাল দিয়ে উঠতে পারি না। লাভও হচ্ছে ভালই।”

বর্তমানে তিনি হোলশেল মাশরুম কেজি প্রতি ১৭০ টাকায় বিক্রি করেন। চন্দ্রকোনার মাটির মানুষ হয়ে সন্তু ঘোষ আজ এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন যে, ইচ্ছে থাকলে সাফল্য আটকান যায় না। তাঁর ‘struggle to success journey’ শুধু সাফল্যের গল্প নয়, এটা সেই কাহিনী যেখানে হার না মানলে জীবনও একদিন মাথা নত করে দাঁড়ায়।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty